Advertisement

আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ পার্টি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ পার্টি
আন্দোলন প্রত্যাহার করে করমর্দন করেন ভারতের দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সিজেপির দুই মুখপাত্র। ছবি: সংগৃহীত

বহুল আলোচিত ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটল। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে নেতারা।

শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফল বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল এফআইআর প্রত্যাহার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণসহ আমাদের উত্থাপিত সমস্ত দাবি কেন্দ্র সরকার মেনে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয় অর্জিত হওয়ায় আমরা সারা দেশের আন্দোলনকারীদের প্রতি অবিলম্বে ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এর আগে একই দিনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের বাকি দাবিগুলোতেও সম্মতি জানায় মোদি সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির নেতারা জানান, সরকারের সঙ্গে সফল আলোচনার পর কেন্দ্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত আইনি মামলা ও এফআইআর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিতে সম্মত হয়েছে।

একই সঙ্গে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির কারণে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও সরকার মেনে নিয়েছে বলে জানান তারা।

যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে সিজেপি নেতৃত্ব জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর এই দুটি স্পর্শকাতর শর্তে কেন্দ্র সরকারের চূড়ান্ত সম্মতির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মূল দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটল।

এদিকে যন্তর মন্তরসহ রাজপথে অবস্থানরত হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থী ও জেন-জি আন্দোলনকারীরা সিজেপির এই ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণ ও উল্লাসের মাধ্যমে উদযাপনে মেতে ওঠেন। একইসঙ্গে রাজপথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি