১০ দিনেই প্রতি ব্যারেল তেলের দাম উঠতে পারে ১৮ হাজার টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার বা ১৮ হাজার ৩৭৪ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক ইরানি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
ইরানের ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সঙ্গে যুক্ত জ্বালানি কৌশলবিদ মাহদি আরবসাদেঘ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ যদি আরও ১০ দিন স্থায়ী হয়, তাহলে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়ে তেলের দাম বড় ধরনের লাফ দিতে পারে। তথ্য আলজাজিরা
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালীতে ‘শত্রু জাহাজ’ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
আরবসাদেঘ বলেন, প্রণালী বন্ধ হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বেড়ে ইতোমধ্যে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যদিও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমুদ্রপথে ইরানি তেল কেনার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৩০ দিনের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়। তাই এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা তৈরি করেছে। এই রুট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহ সংকট আরও গভীর হবে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।