হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে সৌদি আরব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অবরোধ তুলে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ প্রয়োগ করেছে সৌদি আরব। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, আরব দেশগুলো এই অবরোধের পক্ষে আছে। কিন্তু সৌদি আরব বলছে ভিন্ন কথা। তারা চায় ট্রাম্প প্রশাসন জেদ ছেড়ে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসুক।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ‘রিয়াদ আশঙ্কা করছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে।’
সৌদি কর্মকর্তাদের ভয় হলো, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দাব বন্ধ করে দিতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরব তাদের তেলের একটি বড় অংশ লোহিত সাগরের পাইপলাইন দিয়ে রপ্তানি করছে। যদি হুতিরা লোহিত সাগর অবরুদ্ধ করে দেয়, তবে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ট্রাম্পের এই একতরফা সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আগামী শুক্রবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। ব্রিটেন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা মার্কিন অবরোধের পক্ষে নেই। বরং ৪০টিরও বেশি দেশকে নিয়ে তারা একটি শান্তি মিশন শুরু করতে চায়, যাতে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই এই নৌপথটি সবার জন্য খুলে দেওয়া যায়।
এদিকে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বন্দরগুলো অনিরাপদ হলে এই অঞ্চলের আর কোনো দেশের বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। অন্যদিকে, চীন এই অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে উল্লেখ করেছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘গায়ের জোরে বিশ্ব চালানোর চেষ্টা করছেন বা জঙ্গলের রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছেন।’
এদিকে প্রথম দিনেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ অবরোধের ঘোষণা। দেখা গেছে, ইরানের অন্তত তিনটি তেলের জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় থাকা একটি চীনা জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ অবরোধের মতো কঠোর অবস্থান শুধু শত্রু দেশগুলো নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধু দেশ যেমন সৌদি আরব, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সঙ্গেও তাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে।