logo

দ. কোরিয়াকে ‘বিরক্ত’ করতে সীমান্তে স্পিকার বাজাবে উ. কোরিয়া

জাপান টাইমস
জাপান টাইমস
দ. কোরিয়াকে ‘বিরক্ত’ করতে সীমান্তে স্পিকার বাজাবে উ. কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে লাউডস্পিকার স্থাপন করছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা। ছবি: বিবিসি

দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তজুড়ে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার বসিয়ে প্রচার চালানোর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সিউলকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে। তার এ বক্তব্যে দুই কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর আগের দিন উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর মার্শাল পাক জং চনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী সেনা অবস্থান পরিদর্শন করেন কিম জং উনের বোন। এ সময় তিনি বলেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার স্থাপন করবে উত্তর কোরিয়া। পাশাপাশি নতুন অস্ত্রসজ্জিত ইউনিট মোতায়েন করা হবে। ইউনিটগুলো ইতোমধ্যে গোলাবর্ষণের উপযোগী অবস্থানে পৌঁছেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তের কাছে একাধিক স্থানে সতর্কতামূলক সম্প্রচার ও গুলি চালানোর অভিযোগও করেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, ‘বৈধ ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে সতর্কতামূলক গুলি চালানো হয়েছিল।

কিম ইয়ো জং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণের ফলে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কর্মীদের কোনো ক্ষতি হলে দেশটির সেনারা দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনীকে ‘নির্মমভাবে নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে জাতিসংঘ কমান্ডের সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপগুলো কার্যকর হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে সিউল ‘অনুপাতিক ব্যবস্থা’ নেবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এই হুমকি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের দুই কোরিয়ার মধ্যকার শত্রুতা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার প্রশাসন আন্তঃকোরীয় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন করে দেওয়া হুমকিতে দুই দেশের অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।