ট্রাম্পের নিষিদ্ধ করা এআই প্রযুক্তি দিয়ে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, সেই প্রযুক্তিই হামলার পরিকল্পনায় ব্যবহার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক কমান্ড ইরানে হামলার আগে অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ‘ক্লড’ (Claude) ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্বাচন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সিমুলেশন পরিচালনা করে।
ঘটনার নাটকীয় দিক হলো হামলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প নির্দেশ দেন, ফেডারেল সংস্থাগুলো যেন অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি কোম্পানিটিকে “র্যাডিক্যাল লেফট এআই কোম্পানি” বলে আখ্যা দেন।
বিতর্কের সূত্রপাত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সময়। অভিযোগ ওঠে, সেই অভিযানে সামরিক উদ্দেশ্যে ‘ক্লড’ ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের ব্যবহারের শর্ত অনুযায়ী প্রযুক্তি অস্ত্র উন্নয়ন, সহিংস অভিযান বা নজরদারির কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের কোনো প্রযুক্তি কোম্পানির 'আদর্শিক সীমাবদ্ধতার' কাছে জিম্মি রাখা যাবে না। তিনি সামরিক প্রয়োজনে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দাবি করেন।
হামলায় কীভাবে ব্যবহৃত হয় এআই
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে হামলার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্লড ব্যবহার করে—
- বিপুল পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ
- সম্ভাব্য লক্ষ্য চিহ্নিতকরণ
- আক্রমণের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে সিমুলেশন
- কৌশলগত ঝুঁকি মূল্যায়ন
অর্থাৎ, এআই সরাসরি অস্ত্র চালায়নি, তবে হামলার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন, মার্কিন সামরিক ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি এতটাই সংযুক্ত যে তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা কঠিন। তাই ছয় মাসের একটি ‘সংক্রমণকাল’ রাখা হয়েছে, যাতে বিকল্প প্রযুক্তিতে স্থানান্তর সম্ভব হয়।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই পেন্টাগনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের টুল মার্কিন প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—
- রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির পরও কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলো
- প্রযুক্তি কোম্পানির নৈতিক নীতিমালা কি সামরিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে?
- ভবিষ্যতের যুদ্ধে এআই কতটা কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেবে?
ইরান হামলা শুধু সামরিক অভিযান নয়—এটি প্রযুক্তি, নীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নতুন সংঘর্ষের প্রতীক।
এখন পরিষ্কার, আধুনিক যুদ্ধে এআই আর পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। এটি বাস্তব, এবং তা সরাসরি বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, অ্যাক্সিওস