logo

ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার দাবি অস্বীকার আমিরাতের

ইরানকে ২০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার দাবি অস্বীকার আমিরাতের
আরব আমিরাত ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

হামলা বন্ধের শর্তে ইরানকে ১ থেকে ২ হাজার কোটি (১০ থেকে ২০ বিলিয়ন) ডলার দেওয়ার যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। বিশেষ করে ইরানকে ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটি।

আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের কোনো ভিত্তি নেই। ইরানের জব্দ করা কোনো তহবিল মুক্ত করা, স্থানান্তর বা আমিরাতের মাধ্যমে সরবরাহ করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের দাবি পুরোপুরি অসত্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

পাশাপাশি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোকে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি। একইসঙ্গে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্রের ওপর ভরসা করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি প্রতিবেদনে চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর তেহরান আমিরাতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল। ওই হামলায় আমিরাতের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নতুন করে হামলা এড়াতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে আমিরাত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, আরব আমিরাত মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার ইরানকে ছাড়তে রাজি হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

এই সমঝোতার বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র দাবি করে, এই অর্থ ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আমিরাতের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি আমিরাতের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কোনো অর্থ—সে বিষয়ে সূত্রগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি।

রয়টার্স জানায়, এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে ইরান আমিরাতের ওপর সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সমঝোতার বিষয়ে জানা একটি সূত্র জানায়, এই পদক্ষেপের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরান—উভয়পক্ষ নিজেদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করে সংঘাত সমাধানের একটি পথ খুঁজে পেয়েছিল। কারণ এর ফলে ইরান দাবি করতে পারছিল যে, তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনও বলতে পারছিল যে তারা ইরানকে কোনো টাকা দেয়নি।

অর্থ হস্তান্তরের বিষয় অস্বীকার করলেও রয়টার্স যখন এ বিষয়ে আমিরাতের একজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চায় তখন তিনি অর্থের কথা উল্লেখ না করে বলেন, তারা এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। সংঘাতের প্রভাব থেকে এই অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগসহ সব ধরনের প্রচেষ্টাকে আমিরাত সমর্থন করে।"

সূত্র: রয়টার্স, গালফ নিউজ