logo

হাসপাতালে ইমরান খান

হাসপাতালে ইমরান খান

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেলে সায়েন্সেসে (পিমস বা পিআইএমএস) নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) তাকে চোখের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, তাকে ২৪ ফেব্রুয়ারি অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইনজেকশনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। প্রক্রিয়ার আগে বিশেষজ্ঞদের একটি বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। একজন কার্ডিওলজিস্ট ইকোকার্ডিওগ্রাফি ও ইসিজি করেন। পরীক্ষায় ফলাফল স্বাভাবিক আসে। এ ছাড়া একজন পরামর্শক চিকিৎসকও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান খান চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল ছিলেন। অপারেশন থিয়েটারে অবহিত সম্মতি নেওয়ার পর নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে তাকে দ্বিতীয় ডোজ অ্যান্টি-ভিইজিএফ ইনজেকশন দেওয়া হয়। এ সময় পিমস এবং আল-শিফা ট্রাস্ট চক্ষু হাসপাতালের পরামর্শক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ভিট্রিও-রেটিনাল সার্জন উপস্থিত ছিলেন।

এই চিকিৎসা ডে-কেয়ার সার্জারি হিসেবে সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকের মতে, চিকিৎসার আগে, চলাকালীন এবং পরে তিনি স্থিতিশীল ছিলেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ, ফলোআপ নির্দেশনা ও নথিপত্র দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

৭৩ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ২০২২ সালের সংসদ ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ইমরানের আইনজীবী গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টকে জানান, জেলে থাকাকালীন ইমরান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হারিয়ে ফেলেছেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, চিকিৎসার পর পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চোখের ফোলাভাব কমে গেছে এবং তার দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে।

আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের জমা করা প্রতিবেদন অনুসারে, ইমরানের জেল কম্পাউন্ডে ৫৭ ফুট লম্বা ও ১৪ ফুট প্রশস্ত করিডোর রয়েছে এবং এটি ৩৫/৩৭ লনের সংলগ্ন। কম্পাউন্ডে ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ইমরান খান লনে বসে বই ও সংবাদপত্র পড়ে সূর্যের আলো উপভোগ করেন। ব্যায়ামের জন্য তিনি একটি সাইক্লিং মেশিন এবং অন্যান্য জিম সরঞ্জামের সুবিধা পান।