ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকি কী প্রভাব ফেলবে

টানা ২১ ঘণ্টা সংলাপের পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় দেশের প্রতিনিধিদল ফেরত যাওয়ার পর নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা থেকে এই অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে। এই সামরিক অবরোধ শুরু হলে ইরানের বন্দরগুলোতে কোনো জাহাজ প্রবেশ ও বের হতে পারবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান ব্যতীত অন্য দেশের বন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিটি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই সংর্কীণ জলপথ ব্যবহার করতে হলে প্রতিটি জাাহাজকে টোল দিতে হবে। এ ছাড়া প্রণালির জলসীমায় কোনো সামরিক জাহাজ ঢুকে পড়লে সেটা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন ধরে নেবে তেহরান।
নৌ অবরোধ কী ও কীভাবে
২০২২ সালে মার্কিন নৌ বাহিনীর কমান্ডারের নৌ-অপারেশন আইন সংক্রান্ত হ্যান্ডবুকে অবরোধকে সংজ্ঞায়িত করা হয়, ‘শত্রু ও নিরপেক্ষ সব রাষ্ট্রের জাহাজ অথবা বিমানকে কোনো শত্রু রাষ্ট্রের মালিকানাধীন, দখলকৃত বা নিয়ন্ত্রণাধীন নির্দিষ্ট বন্দর, বিমানক্ষেত্র বা উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থান করতে বাধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত যুদ্ধকালীন অভিযান’।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই নির্দেশনা অনুসরণ করছে। তারা বলেছে, এই অভিযানটি পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগরের ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা প্রস্থানকারী সব দেশের জাহাজের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হবে।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরান বাদে অন্য বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না। এ ছাড়া অবরোধ শুরু হওয়ার আগে বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় সোমবার সকাল ১০টায় এই অবরোধ শুরু হবে, যা ইরানের সময় বিকেল ৫টা।
এর আগে, ফক্স নিউজকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিটি অবরোধ করার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশও জড়িত থাকবে। তবে কোন কোন দেশ থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত যুক্তরাজ্য এই অবরোধে থাকবে না ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন আইন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মার্কিন নৌ অবরোধ সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন প্রশ্ন তুলেছেন যে, সামরিকভাবে বলবৎ করা এই অবরোধ বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করবে কি না।
কী প্রভাব পড়বে
শিপিং এক্সপার্ট লার্স জেনসেন জানান, ট্রাম্পের এই অবরোধের হুমকি ইরানমুখী জাহাজকেই প্রভাবিত করবে। তিনি বলেন, আমেরিকানরা যদি সত্যি এটা করে, তবে তা খুব সামান্য কিছু জাহাজের চলাচল থামিয়ে দেবে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না।
ভেসপুচি মেরিটাইমের প্রধান নির্বাহী জেনসেন বলেছেন, ইরানকে টোল প্রদানকারী যে কোনো জাহাজের নিরাপদ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার ট্রাম্পের হুমকিও তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ এমনটি করা যে কোনো কোম্পানিই ওই শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ প্রদানের জন্য ইতোমধ্যেই নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবে।
সূত্র: বিবিসি