logo

সৌদি মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয়, হামলা করেছে ইসরায়েল: আইআরজিসি

সৌদি মার্কিন দূতাবাসে ইরান নয়, হামলা করেছে ইসরায়েল: আইআরজিসি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ইরান হামলা চালায়নি। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এ হামলার দায় অস্বীকার করেছে। তারা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদেনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। আইআরজিসি ইসরায়েলের উসকানিতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। 

আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস হামলা হয়েছে। এই ঘটনাটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে ‘একেবারেই সম্পর্কহীন’ এবং অঞ্চলে ‘জায়নবাদী শত্রুদের’ কূটকৌশল বিবেচনা করলে এটি নিশ্চিতভাবে ইসরায়েল দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকা আগে থেকে চূড়ান্ত করে রেখেছে। প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো যাতে মার্কিন-ইসরায়েলি কোনো চক্রান্তের ফাঁদে না পড়ে, সে ব্যাপারেও ইরান বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে শনিবার দক্ষিণ ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি তেল ও রাসায়নিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খুজেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিমে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময়ে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এরপর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে মাহশাহর পেট্রোকেমিক্যাল এলাকায় আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি।

ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি আরও জানান, ফজর ১ ও ২, রেজাল এবং আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলো এই হামলায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়াও মাত্র ১০ মিনিট পর বেলা ১১টায় খোররামশাহরের শালামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালেও হামলা চালায় ইসরায়েল ও মার্কিনীরা। এই হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর।

পরবর্তীতে আবু আলি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনাতেও বিমান হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি ফাইটার জেট।

মাহশাহর এবং বন্দর-ই ইমাম খোমেনি এলাকায় হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ অর্থনৈতিক পেট্রোকেমিক্যাল জোনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, জরুরি কমান্ড কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলাকার সক্রিয় শিল্প ইউনিট থেকে সব কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।