logo

মিত্রদেরকে রক্ষায় ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

মিত্রদেরকে রক্ষায় ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে ভূমধ্যসাগরে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে ফ্রান্স।  মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, কাতার, কুয়েত, আমিরাত, জর্ডান ও ইরাককে সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ইতোমধ্যে রাফাল যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এয়ার রাডার পাঠানো হয়েছে। এগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে কাজে লাগানো হবে।

এর আগে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলার পর সেখানে রণতরি ‘এইচএমএস ড্রাগন’ ও হেলিকপ্টার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭৬ জন শিশুসহ ৭০০- এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।

১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।