logo

লেবানন সীমান্তে অভিযানের সময় ইসরায়েলি মন্ত্রীর ছেলে আহত

লেবানন সীমান্তে অভিযানের সময় ইসরায়েলি মন্ত্রীর ছেলে আহত

লেবাননের সীমান্তে সামরিক অভিযানের সময় আহত হয়েছেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের ছেলেসহ আরও কয়েকজন ইসরায়েলি সেনা। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর বরাতে শুক্রবার (৬ মার্চ) এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

এদিকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০২ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬৩৮ জন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ত্রিপোলি এলাকায় এক অভিযানে হামাসের এক কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। নিহত ওই কমান্ডারের নাম ওয়াসিম আতাল্লাহ আলী। তবে এই দাবি এবং হতাহতের সংখ্যা ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।।

এদিকে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের এলাকাগুলো খালি করতে বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই এলাকা দাহিয়ে নামে পরিচিত এবং সেখানে হিজবুল্লাহর শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নিজেদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান।’

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বুর্জ আল-বারাজনে, হাদাথ, হারেত হরিক ও শিয়াহ—এই চারটি বড় এলাকা খালি করতে বলেছে। ধারণা করা হয়, এসব এলাকায় প্রায় তিন লাখ থেকে সাত লাখ মানুষের বসবাস।

বিশ্লেষকদের মতে, আগে নির্দিষ্ট ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এবারই প্রথম রাজধানীর বড় অংশের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হলো।

ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলা ও সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০ হাজার মানুষ নিজেদের বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। তবে ত্রাণকর্মীদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় এক লাখ ৮০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে।

ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, বহু পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় ঘুরছে। কেউ কেউ সরকারি উদ্যোগে খোলা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে উঠেছেন। তবে অনেক মানুষ এখনো রাস্তায় কিংবা নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন।