Advertisement

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু, সংঘর্ষ নিয়ে নতুন তথ্য বিজ্ঞানীদের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বিশাল গ্রহাণু, সংঘর্ষ নিয়ে নতুন তথ্য বিজ্ঞানীদের
২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে পার হয়ে যাবে বিশালাকার গ্রহাণু ‘অ্যাপোফিস’। ছবি: সংগৃহীত

মহাজাগতিক দীর্ঘদিনের শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশালাকার গ্রহাণু ‘৯৯৯৪২ অ্যাপোফিস’ ২০২৯ সালে পৃথিবীর খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এটি সরাসরি আমাদের গ্রহে আছড়ে পড়বে না।

তবে সরাসরি সংঘর্ষ না হলেও পৃথিবীর প্রচণ্ড অভিকর্ষণ বলের প্রভাবে ওই গ্রহাণুটির ভেতরে এক ধরনের তীব্র ‘মহাজাগতিক ভূমিকম্প’ বা ভূমিধসের সৃষ্টি হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রহাণুটি পৃথিবীর মাত্র ৩২ হাজার কিলোমিটার (প্রায় ২০ হাজার মাইল) দূর দিয়ে পার হয়ে যাবে। এই দূরত্বটি মহাকাশে বিদ্যমান অনেক কৃত্রিম ভূ-স্থির উপগ্রহের কক্ষপথের চেয়েও পৃথিবীর অনেক বেশি কাছে।

আপাতত সরাসরি কোনো সংঘর্ষের ঝুঁকি না থাকলেও, পৃথিবীর উপর অ্যাপোফিসের প্রভাবের চেয়ে গ্রহাণুটির নিজস্ব পরিবর্তনের বিষয় নিয়েই এখন বেশি চিন্তিত বিজ্ঞানীরা।

প্ল্যানেটারি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, পৃথিবীর জোরালো জোয়ার-ভাটা সংক্রান্ত টান বা টাইডাল ফোর্সের কারণে অ্যাপোফিসের অভ্যন্তরীণ গঠন ও গতিপথে অভাবনীয় পরিবর্তন আসতে পারে।

পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির শক্তিশালী প্রভাবে গ্রহাণুর ওপর জমে থাকা পাথর ও ধূলিকণার স্তরে বড় ধরনের ভূকম্পন তৈরি হতে পারে। এর ফলে ওপরের স্তর ছিটকে পড়ে গ্রহাণুর গায়ে নতুন গর্ত তৈরি হতে পারে।

২০০৪ সালে আবিষ্কৃত ৩৭০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ২১০ ফুট) দীর্ঘ এই গ্রহাণুটি সাধারণ অবস্থায় সেকেন্ডে প্রায় ৩০.৭৩ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলে। তবে পৃথিবীকে পেরোনোর সময় এর গতি কমে সর্বোচ্চ ৭.৪২ কিলোমিটার/সেকেন্ডে নামবে।

বিজ্ঞানীরা আপাতত আশ্বস্ত করেছেন যে, ২০২৯-এর এই যাত্রায় পৃথিবীর সঙ্গে সরাসরি কোনো প্রাণঘাতী ধাক্কা লাগছে না।

তবে পৃথিবীর অভিকর্ষ অতিক্রম করার পর অ্যাপোফিসের গতিপথ ঠিক কতটা পরিবর্তিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হবে ২০৬৮ সাল বা তার পরের পরবর্তী কোনো যাত্রায় এটি নতুন করে পৃথিবীর জন্য কোনো বিপদ ডেকে আনবে কি না।