খামেনি হত্যায় ভারতে কেন বিক্ষোভ

গত সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন শহরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কালো পোশাক পরা ভারতীয় নাগরিকরা মসজিদ ও পাবলিক স্কোয়ারে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করেছেন, মোমবাতি জ্বালিয়েছেন এবং খামেনির স্মরণে শোক পালন করেছেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বহু দশক ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সি খামেনিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় হত্যা করা হয়। তিন দশক ধরে শাসনকালে তিনি ইরানকে শক্তিশালী মার্কিনবিরোধী শক্তিতে পরিণত করেছিলেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। একই সময়ে ঘরে অস্থিরতা দমন করতে লৌহমুষ্টি ব্যবহার করেছিলেন।
খামেনির মৃত্যু বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তার শাসনের অবসান উদযাপন করেছেন। তবে তার শাসনকালের নারীর অধিকার লঙ্ঘন ও ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করা গেছে। যেমন—২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিক্ষোভ মোকাবিলায় তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সমর্থন করেছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানাচ্ছে, দমন-পীড়নের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।
ভারতের শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য খামেনির মৃত্যু পবিত্র রমজান মাসের শেষে ঈদ উদযাপনের আনন্দকে ছায়ায় ফেলে দিয়েছে। কাশ্মীরের উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে হায়দ্রাবাদ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ শোকসভায় অংশ নিয়েছে। ৫৮ বছর বয়সি ইলেকট্রিশিয়ান রজব আলী বলেন, ‘আমি ঈদ উদযাপন করব না। কারণ, আমরা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে শোক পালন করব। তিনি আমাদের রাহবার (গাইড) ছিলেন। এখন আমরা কীভাবে উদযাপন করব? অতিথি ডাকব না, নতুন পোশাক পরব না।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ যখন মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ায় চলেছে, তখন এর প্রভাব ভারতের ওপরও স্পষ্টভাবে পড়ছে। ভারতের ওপর প্রভাব বিস্তৃত। উপসাগরের ওপর নির্ভরতা, শ্রম শাখা, কৌশলগত অস্থিরতা সবই নয়াদিল্লির জন্য সীমিত বিকল্প তৈরি করছে। ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ উপসাগরীয় পথ দিয়ে। চলতি বছরে দেশটি দৈনিক গড়ে ২ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। তাছাড়া ভারতের মোট তেলের ৯০ শতাংশ আমদানি হয়, ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও সরবরাহঝুঁকির সঙ্গে দেশটি মুখোমুখি।
অর্থনৈতিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও গভীর। ব্রোকারেজ ফার্ম জেফেরিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি ভারতীয় উপসাগরীয় অঞ্চলে বাস করেন ও কাজ করেন এবং বড় পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান। ফলে, যুদ্ধ ভারতের জন্য একাধিক ফ্রন্টে প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি সংঘাত সীমান্তের কাছে না এলেও।
সম্প্রতি ঘটনা ঘটেছে, যখন ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস ডেনা’ বুধবার বহুপাক্ষিক নৌ মহড়া শেষে ভারত মহাসাগরে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি মাত্র ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলার শিকার হয়। ইরান বলেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি’ হিসেবে মহড়ায় অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরছিল। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের মতে, কমপক্ষে ‘৮৭ জনের মরদেহ ও ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজে তখন প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন।
যদিও ভারতীয় নৌবাহিনী ইরানি জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার বা বাহিনী ‘মার্কিন হামলার নিন্দা করেনি। সমালোচকরা এই নীরবতাকে ‘কৌশলগতভাবে বিব্রতকর’ বলছেন। অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন উদয় ভাস্কর মনে করছেন, এতে ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা দুর্বল হয়েছে এবং দেশের নৈতিক অবস্থান বিপর্যস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া খামেনির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কেও নরেন্দ্র মোদি মুখে কোনো মন্তব্য করেননি।
গত বৃহস্পতিবার ভারত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর চার দিন পর তেহরানে শোক প্রকাশ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে ‘ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে’ খামেনির মৃত্যুতে শোকনামায় স্বাক্ষর করেছেন।
তবে ইরানের একজন প্রতিনিধি জানান, দেশটি ভারতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে উচ্চমূল্য দেয় এবং আশা করে যে অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে। ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলহি দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক সরকারি ও জনগণের স্তরে শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী। মোদি সরকারের সরাসরি নিন্দার অভাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। এটি গত কয়েক দশকে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমরা আশা করি এটি আমাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করবে। অন্য কোনো দেশ এটি ভাঙতে পারবে না।’
ড. হাকিম আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আগেই ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দিতেন। তিনি ইরানকে পরামর্শ দিতেন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভারতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করতে। ভারতে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশকারীদের জন্য এটি কেবল আর্থিক বা কৌশলগত উদ্বেগ নয়। নিহত নেতা সমর্থকদের কাছে কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, তিনি একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন যার প্রভাব ইরানের বাইরেও বিস্তৃত।
শিয়া ইসলামে শোক পালনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা শোকার্তারা ছোট দলে দিল্লির একটি মসজিদের বাইরে সন্ধ্যায় সমাবেশ করেছেন। স্পিকারের পিছনে খামেনির বড় বড় প্রতিকৃতি ঝুলানো ছিল। পুরুষরা প্রার্থনার সঙ্গে একটি স্মরণসঙ্গীত গেয়েছিলেন, অন্যদিকে কিছু নারী নীরবে কাঁদছিলেন।
দিল্লির অবসরপ্রাপ্ত উদ্যানতত্ত্ব গবেষক ড. মুহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার মনে হলো যেন আমি আবার এতিম হয়ে গেছি। শেষবার এমন অনুভূতি হয়েছিল যখন আমার বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন। এখন মনে হচ্ছে যেন সমস্ত শিয়া সম্প্রদায়ই এতিম হয়েছে। খামেনি শহীদ হয়েছেন। এটি ঘটেছে পবিত্র রমজান মাসে। এমনকি সংঘাতের সময়ও এই সময়কে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যুদ্ধ স্থগিত করা হয়।’
পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের মুজাফফরপুরের ৬২ বছর বয়সি সাইয়েদ জাভেদ জাহির বলেন, সম্প্রদায়ের অনেকেই এখনও এই খবর মেনে নিতে পারছেন না। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব শিখিয়েছে কীভাবে শিয়া মুসলিমরা তাদের বসবাসের দেশ ও জাতিকে ভালোবাসবে। তিনি বলেন, ‘অনেক মুসলিম দেশ আছে। কিন্তু আমাদের কাছে ইরানই একমাত্র ইসলামী দেশ।’
ভারতের রাজধানীতে অবস্থিত জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুদ্দাসির কোমার ব্যাখ্যা করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান দ্বাদশ শিয়া ইসলামে ‘বেলায়াত-এ-ফকিহ’ বা আইনবিদের অভিভাবকত্ব নামে পরিচিত ধর্মতাত্ত্বিক ধারণার ওপর নির্ভর করে। শিয়া ইসলামের বৃহত্তম শাখা, টুয়েলভার শিয়া, নবী মুহাম্মদের বৈধ আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বারোজন ইমামকে স্বীকৃত মনে করে।
ড. কোমার বলেন, বেলায়াত-এ-ফকিহের ধারণা অনুযায়ী একজন সিনিয়র ইসলামি ধর্মগুরু দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় জীবন পরিচালনা করবেন। ইরানের ব্যবস্থায়, এর অর্থ সর্বোচ্চ নেতা বা রাহবার-ই-আজম। তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি। ইমামের অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ আলেমরা সম্প্রদায়কে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য এই ধারণা ব্যবহৃত হয়, ফলে সর্বোচ্চ নেতা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় কর্তৃত্বের অধিকারী হন।
তিনি আরও বলেছেন, এই দ্বৈত ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব দেশের বাইরে অনেক বিস্তৃত। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়াসহ আরব ও ইসলামী বিশ্বের শিয়া মুসলিমরা তাকে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মান্য করে এবং বিশ্বজুড়ে শিয়া নেতৃত্বের জন্য সর্বোচ্চ নেতার দিকে তাকায়। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিপ্লবী আদর্শে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী এবং আমেরিকাবিরোধী মনোভাব নিহিত। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু মার্কিন-ইসরায়েল হামলার সময় ঘটে, যা বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদকে আরও তীব্র করেছে।’
ইরানের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশ পাকিস্তানে খামেনির মৃত্যুর পর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়। করাচিতে, মার্কিন মেরিনরা কনস্যুলেটের দেয়াল ভেঙে প্রবেশকারী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ শিয়া ধর্মগুরুরা শোক দিবস ঘোষণা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে আরও বিক্ষোভ হতে পারে, যার ফলে বড় শহরগুলিতে অস্থিরতা ছড়াতে পারে।
শিয়া ধর্মগুরু সাজিদ আলী নকভি বলেন, ‘খামেনির মৃত্যু শিয়াদের দুর্বল করেনি; বরং এটি তাদের মধ্যে বিপ্লবের নতুন চেতনা জাগিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দাসত্ব থেকে স্বাধীনতার ধারণার সঙ্গে একত্রিত করেছে।’ পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ শিয়া হলেও দেশটির বেশিরভাগ মানুষ সুন্নি মুসলিম।
ভারতে বিক্ষোভ সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোমার বলেন, ‘হ্যাঁ, বিক্ষোভগুলো মূলত শিয়া সংখ্যালঘুর এলাকায় সীমাবদ্ধ। এগুলো স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, এবং বৃহত্তর সংগঠিত আন্দোলনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। মূলত এগুলো ধর্মীয় সংহতি। বিক্ষোভগুলো আরও ছড়াবে না এবং অবস্থা স্থিতিশীল হবে, যদিও এটি ইরানের পরিস্থিতি এবং চলমান যুদ্ধের ওপরও নির্ভর করবে।’
শ্রীনগরে বিক্ষোভকারীরা শহরের ল্যান্ডমার্ক লাল চকে জড়ো হয়েছিল এবং অনেকেই ঘড়ির টাওয়ারে ওঠে। অনেকে প্রার্থনা ও প্রশংসা গান গেয়ে কাঁদছিলেন। বুদগাম ও বান্দিপোরাসহ আশেপাশের জেলাগুলোতেও সমাবেশ হয়েছিল।
কর্তৃপক্ষ পরে ঘড়ির টাওয়ারটি সিল করে দেয় এবং উপত্যকার বিভিন্ন অংশে বিধিনিষেধ আরোপ করে। টানা তিন দিন চলাচল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে, বিশেষ করে শিয়া মুসলিমদের ঘন বসতি অঞ্চলে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৭ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় এবং মোবাইল ইন্টারনেটের গতি সীমিত করা হয়। শহরজুড়ে পুলিশ এবং আধাসামরিক কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়; গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড ও তার ব্যবহার করে পথ বন্ধ করা হয়।
গত ২ মার্চ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে মিছিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালায়, ফলে শিয়া মুসলিমরা পিছু হটে। লেহ ও কার্গিলসহ লাদাখের ফেডারেল অঞ্চলেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে কালো পোশাক পরা পুরুষ ও নারীরা খামেনির প্রতিকৃতি বহন করে মিছিল করেছেন। লখনৌতে, ঐতিহাসিক রুমি গেটে শত শত মানুষ কালো পতাকা ও ইরানি নেতার ছবি হাতে নিয়ে জড়ো হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই সমাবেশগুলো মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল।
কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, এমন কর্মকাণ্ড এড়াতে হবে যা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।