দুবাইয়ে মস্তিষ্কের টিউমার ক্যানসার চিকিৎসায় সাফল্য

মস্তিষ্কের ক্যানসার চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সুস্পষ্টভাবে টিউমার শনাক্ত করা এবং ওষুধকে সেখানে পৌঁছে দেওয়া। তবে, এ দুটি সমস্যারই সমাধান খুঁজে পেয়েছেন দুবাইয়ের একদল গবেষক।
আবুধাবির নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল এমন একটি স্মার্ট অণুর উদ্ভাবন করেছেন যেটি এমআরআই পরীক্ষার সময় ব্রেইন টিউমারকে স্পষ্ট করে তুলবে। একইসঙ্গে, এটি ক্যানসারও ধ্বংস করবে যা প্রাণীদের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে।
এ গবেষণাটি বিখ্যাত গবেষণা সাময়িকী জার্নাল অব অ্যামেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় মস্তিষ্কের ক্যানসারের সবচেয়ে ভয়ংকর ধরন গ্লিওব্লাস্টোমার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি এমন একটি ব্রেইন টিউমার যা সচারাচর প্রাপ্তবয়স্কদের হয়ে থাকে। এ টিউমার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পুরো ব্রেইনের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ায় এর চিকিৎসা করা এখনও বেশ দুরুহ।
এ কারণে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি দেওয়ার পরও আক্রান্ত ব্যক্তি মাত্র ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন। বিশ্বজুড়ে মেডিকেল গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
গবেষক দলের প্রধান ফারাহ বেনইয়েত্তু বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো উপাদান তৈরি করা, যাতে যথাসময়ে ক্যানসার শনাক্ত এবং একইসঙ্গে চিকিৎসাও করা যায়। গবেষকরা আরও জানান, তাদের উদ্ভাবিত অনুগুলো সুস্থ কলায় নিষ্ক্রিয় থাকে কিন্তু টিউমারে পৌঁছানোর পর এটি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা সেখান থেকে ম্যাঙ্গানিজ আয়োন বের করে দেয়। এর ফলে চিকিৎসকরা সহসাই টিউমারটি শনাক্ত করতে পারেন।
এদিকে গবেষকদের এ সাফল্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিকিৎসা খাতে গবেষণার উচ্চাভিলাসকে আরও জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। দেশটি সম্প্রতি জীব বিজ্ঞান, জেনোমিক্স এবং অ্যাডভ্যান্স হেলথকেয়ারের ওপর গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।