হান্টাভাইরাস আতঙ্কে কোয়ারেন্টিনে ডাচ হাসপাতালের ১২ স্বাস্থ্যকর্মী

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত এক রোগীর রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা যথাযথ কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল ছাড়া ব্যবহারের ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের একটি হাসপাতালে ১২ স্বাস্থ্যকর্মীকে সতর্কতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যখন চিকিৎসকরা ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে লড়াই করছেন, তখন এই ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নেদারল্যান্ডসের নিজমেখেন শহরের রাডবাউডইউএমসি হাসপাতাল জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিনে থাকা কর্মীদের ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের এক যাত্রী হাসপাতালটির ওই রোগী ছিলেন । গত ৭ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ডাচ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোফি হারমান্স পার্লামেন্টে বলেন, নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল। তবে এই নির্দিষ্ট হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রে যে সর্বোচ্চ কঠোর প্রোটোকল প্রয়োজন, তা পুরোপুরি মানা হয়নি।
তিনি বলেন, এটি কোভিড পরিস্থিতির মতো নয়। বর্তমান জ্ঞান ও নেওয়া পদক্ষেপের ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করি, ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের তুলনায় এটি দুইজন বেশি। এছাড়া আরও দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভাইরাসটির দীর্ঘ ইনকিউবেশন সময়ের কারণে সামনে আরও আক্রান্ত শনাক্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রিয়াসুস। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো মহামারি নয় এবং কোভিড-১৯–এর মতো পরিস্থিতিও নয়।
এ পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন এক ডাচ দম্পতি ও এক জার্মান নাগরিক।
ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব শুরু হয় হন্ডিয়াস ক্রুজ জাহাজে। যাত্রীরা স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নেমে যাওয়ার পর জাহাজটি ২৫ ক্রু সদস্য, একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স নিয়ে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। আগামী ১৭ মে জাহাজটি পৌঁছানোর কথা।
জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে, যাতে সংক্রমণ আরও না ছড়ায়।
ইতালিতে এক ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যিনি হান্টাভাইরাসে মারা যাওয়া ডাচ নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। স্পেনে কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৪ জনের মধ্যে একজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১৩ জনের পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
এছাড়া ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নামার পর এক ফরাসি যাত্রীর শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যায় থাকলেও স্থিতিশীল আছেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হন্ডিয়াস থেকে ফেরা ১৮ যাত্রীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে নেব্রাস্কার একটি বিশেষ বায়োকনটেইনমেন্ট ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটি সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা আগামী কয়েক সপ্তাহ এমনকি মাসজুড়েও থাকতে পারে।
.png)

