logo

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ধসের মুখে থাইল্যান্ডের মৎস্য শিল্প

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ধসের মুখে থাইল্যান্ডের মৎস্য শিল্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ধসের মুখে থাইল্যান্ডের কয়েক বিলিয়ন ডলারের মৎস্য শিল্প। রয়টার্সের খবর জানাচ্ছে, জ্বালানি খরচ মেটাতে না পেরে থাইল্যান্ডের বৃহত্তম মৎস্য বন্দরে অর্ধেকের বেশি ট্রলার এরই মধ্যে নোঙর করে বসে আছে।

এ পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের জেলেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় সামুত সাখোন ফিশমঙ্গার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জুম্পোল কানাওয়ারি জানিয়েছেন, ‘আগামী ১ এপ্রিলের পর বাজারে হয়তো কোনো মাছই পাওয়া যাবে না। জেলেরা আর তাদের পরিবার ও কর্মীদের খরচ বহন করতে পারছে না। পরিস্থিতি পুরোপুরি তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।’

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ড বছরে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের সামুদ্রিক পণ্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও চীনে রপ্তানি করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থাইল্যান্ডে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ২৯ দশমিক ৯৪ বাত থেকে বেড়ে ৩৮ দশমিক ৯৪ বাতে (১ দশমিক ১৯ ডলার) ঠেকেছে। জেলেরা বলছেন, ডিজেলের দাম ৪০ বাত ছাড়িয়ে গেলে মাছ ধরতে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

অনেক জেলে জ্বালানি বাঁচাতে এখন ধীরগতিতে নৌকা চালাচ্ছেন, যার ফলে আগের চেয়ে অনেক কম মাছ ধরা পড়ছে। এই সংকটকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলছেন জেলেরা। তাদের মতে, চলমান পরিস্থিতি কোভিড-১৯ মহামারির চেয়েও বেশি বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলেদের জন্য জ্বালানি প্যাকেজে বিশেষ ভর্তুকি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে থাই সরকার।