logo

এবার আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

এবার আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের সামরিক বিমান বিধ্বস্ত
বিধ্বস্ত সামরিক বিমানের ধ্বংসাবশেষ জ্বলছে। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানটির উভয় পাইলটই নিহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) প্রদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মারদানের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে বিধ্বস্ত হয়। ফলে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মুহাম্মদ কাসিম আবদুল্লাহ ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তাহা আব্বাসী নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা এবং পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছেন।

গত পাঁচ দিন আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি দুর্ঘটনার পর এই দুর্ঘটনাটি ঘটল। দেশটিতে আকাশপথে সামরিক যানের দুর্ঘটনা খুব কম নয়। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, এর আগের ঘটনায় বুধবার মুজাফফারাবাদের কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে’ উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হয়েছে। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানে থাকা সকল কর্মী নিহত হন। কেউ বেঁচে ছিলেন না।

গত বছর সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়ামের জেলায় একটি ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ কারণে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। এর এক মাস আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার মোহমান্দ জেলায় বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট ও তিনজন ক্রু সদস্য নিহত হন।

২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। সে বছর ২ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বেলুচিস্তানের লাসবেলা জেলা থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এই দুর্ঘটনায় ১২ কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সরফরাজ আলীসহ হেলিকপ্টারটিতে থাকা ছয়জনই নিহত হন।

পরের মাসে বেলুচিস্তানের হারনাইয়ের খোস্তের কাছে একটি অভিযান চলাকালে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মেজরসহ ছয়জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের ঘানচে জেলার সিয়াচেনে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট প্রাণ হারান। এর এক বছর আগে গিলগিট-বালতিস্তানের আস্তোর জেলায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার সময় একটি সেনা হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজন সদস্য নিহত হন।

২০১৫ সালে খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মানসেহরার কাছে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় আরোহী ১২ জনেরই মৃত্যু হয়।

সূত্র: দ্য ডন