সৌদি আরব কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে

কংগ্রেসে পাঠানো এবং রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচনা করা নথির একটি অনুলিপি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়ন করছেন।
কিন্তু এ চুক্তিতে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নেই। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে সৌদি সরকার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। কারণ, দেশটির ওই ধরনের কোনো সক্ষমতা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে কাজ করেছেন।
রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বশেষ কৌশলগত অস্ত্র সীমাবদ্ধতা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এ খবর পাওয়া গেছে। অপরদিকে চীনের নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণের পদক্ষেপের পরে নতুন করে বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ডেমোক্র্যাট এবং কিছু শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সৌদির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনেটে দায়িত্ব পালনকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেছেন, যে কোনো (পারমাণবিক) চুক্তিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি সৌদি-মার্কিন বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতেও সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নেই। কারণ, দেশটির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বা ব্যয়িত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা নেই। এ কারণে দেশটি কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, সৌদি আরব তথাকথিত অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বা প্রোটোকল মেনে চলবে। এর ফলে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিস্তৃত এবং আরও হস্তক্ষেপমূলক তদারকি করতে পারবে। তখন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির শঙ্কাও থাকবে না।