প্যারাস্যুট থেকে ইরানে নামবে ২ হাজার মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ বিবেচনা করছেন, ঠিক এমন সময়েই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখতে সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সৈন্য পাঠানো শুরু হয়েছে। এই বাহিনী ডিভিশনের ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’-এর অংশ, যা ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যে কোনো স্থানে মোতায়েন হতে সক্ষম।
সম্প্রতি পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, এই দলে ডিভিশন কমান্ডার মেজর জেনারেল ব্র্যান্ডন আর. টেগটমায়ার, তার স্টাফ সদস্য এবং প্রায় ৮০০ সদস্যের দুটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রয়োজনে আগামী দিনগুলোতে আরও সেনা পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপার রয়েছেন। তারা প্যারাস্যুটে নেমে বিমানঘাঁটি, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখল করতে সক্ষম।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিজাত বাহিনী প্যারাস্যুটে করে ইরানে নামতে পারে। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন যুদ্ধ মন্ত্রণালয়। ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের এই সামরিক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় খ্যাতি অর্জন করেছিল।
এর আগে থেকেই প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। নতুন এই বাহিনী যুক্ত হলে সংঘাত শুরুর পর থেকে অতিরিক্ত স্থলবাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭ হাজারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
পেন্টাগনের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানের আওতায় মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে প্যারাট্রুপারদের কোথায় পাঠানো হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের অবস্থান ইরানের আওতার মধ্যেই হবে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উত্তর পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নাম উঠে এসেছে। চলতি মাসের শুরুতে এই এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় ৯০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ২ হাজার ৩০০ সদস্য এই সপ্তাহের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। তাদের খারগ দ্বীপ দখল বা হরমুজ প্রণালি সচল করতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক নৌচলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। আরও একটি ইউনিট, ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হয়েছে। তাদের এপ্রিলের মাঝামাঝি পৌঁছানোর কথা।
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলর হামলায় খারগ দ্বীপের বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সাবেক মার্কিন কমান্ডারদের মতে, প্রথম ধাপে মেরিন সেনাদের পাঠানো হতে পারে, কারণ তাদের প্রকৌশলীরা দ্রুত ঘাঁটি পুনঃসংস্কার করতে সক্ষম। এরপর বিমানবাহিনী সি-১৩০ কার্গো বিমানে সরঞ্জাম ও সেনা পরিবহন শুরু করতে পারে।
এ অবস্থায় ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্যরা মেরিনদের সহায়তায় যুক্ত হতে পারেন। তবে বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্যারাট্রুপাররা দ্রুত পৌঁছাতে পারলেও তাদের কাছে ভারী সাঁজোয়া সরঞ্জাম থাকে না, যা সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।