logo

চীন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

চীন ইস্যুতে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা এসেছে বেইজিং থেকে। তিন দিনের চীন সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৈঠক শেষে দুই দেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক চুক্তি করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

এই ঘোষণার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চীনের সঙ্গে চুক্তি করা যুক্তরাজ্যের জন্য ‌‘খুবই বিপজ্জনক’ হতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ‘তাদের জন্য এমনটা করা বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত’। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, স্টারমারের চীন সফরের বিষয়ে ওয়াশিংটন আগে থেকেই অবগত ছিল।

একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন। স্টারমারের এই সফরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের জন্য যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ ও ব্রিটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোর সম্ভাব্য চুক্তি।

পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ওষুধ শিল্পের বড় প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে ১০ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইউকে-চায়না বিজনেস ফোরাম’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছি এবং বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করেছি। কারণ যুক্তরাজ্যের দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।’

এদিকে একই দিনে একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি কানাডাকেও সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো কানাডার জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।

সম্প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীন সফর করে শুল্ক-সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি করেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে কানাডার অটো শিল্পের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।