শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান/আমি প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেব না: নেতানিয়াহু

গাজা উপত্যকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে কোনো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন হতে দেওয়া হবে না।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিশ্চিত করার আগে গাজা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক চুলও প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানান নেতানিয়াহু।
রোববার (৯ আগস্ট) এক বিশেষ ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই কট্টর অবস্থান ঘোষণা করেন।
জুলাই মাসের শেষভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ অঞ্চলটিতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫ দফার নতুন রূপরেখা প্রস্তাব করে। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইসরায়েল এই ১৫ দফা দলিলটি প্রত্যাখ্যান করছে। যতদিন আমি প্রধানমন্ত্রী থাকব, কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না; গাজায়ও নয়, পশ্চিম তীরেও নয়।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ধারণা ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও সার্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানের বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজনে নিকটতম মিত্রদের বিরুদ্ধে গিয়েও ইসরায়েল নিজেদের সুরক্ষায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান খারিজ করে উল্টো ট্রাম্পের প্রস্তাবিত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে হামাস। সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্য বাসেম নাইম বলেন, ‘আমরা আশা করি মধ্যস্থতাকারীরা নেতানিয়াহুকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নির্বাচনি স্বার্থে শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখবে।’
চলতি বছরের অক্টোবরের শেষভাগে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে।
বর্তমানে গাজার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচসহ ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টর ডানপন্থি সদস্যরা। তাদের মতে, গাজা উপত্যকা থেকে এক মিলিমিটার পিছিয়ে আসাও হবে কৌশলগত ভুল।
সূত্র: সিএনএন
.png)


