logo

পেট্রোল ও ডিজেলের আবগারি শুল্ক কমাল ভারত

পেট্রোল ও ডিজেলের আবগারি শুল্ক কমাল ভারত

ইরান যুদ্ধের কারণে গত এক মাসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক উল্লম্ফন হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছে ভারত।

রয়টার্সের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, একইসঙ্গে জেট ফুয়েল ও ডিজেল রপ্তানির ওপর ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। উইন্ডফল ট্যাক্স বা অপ্রত্যাশিত কর হলো সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট কোনো শিল্প বা কোম্পানির ওপর আরোপিত উচ্চ করের হার, যা কোনো আকস্মিক বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করলে কার্যকর করা হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোয়র ফলে সরকারি কোষাগারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ভারতের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়ে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে প্রকাশিত সরকারি আদেশে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় পেট্রোলের বিশেষ আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি করেছে। এ ছাড়া ডিজেলের শুল্ক লিটারপ্রতি ১০ রুপি থেকে কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে।

সামনের মাসে ভারতের চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রয়টার্স বলছে, ভারতের ভোটাররা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সংবেদনশীল হওয়ায় এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। 

ভারতের তেলমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশচুম্বী দামের এই সময়ে তেল কোম্পানিগুলোর বিশাল লোকসান কমাতে সরকার রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।’

এমকে গ্লোবালের অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরার মতে, এই শুল্ক হ্রাসের ফলে বার্ষিক প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ভারতীয় রুপির সমান রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। 

এ ছাড়া সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ডিজেল রপ্তানিতে প্রতি লিটারে ২১ দশমিক ৫ রুপি এবং উড়োজাহাজের জ্বালানিতে (এটিএফ) প্রতি লিটারে ২৯ দশমিক ৫ রুপি কর ধার্য করা হয়েছে। মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ। দেশটিতে গত বছর ব্যবহৃত রান্নার গ্যাসের ৬০ শতাংশই ছিল আমদানিকৃত, যার ৯০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।