বেসরকারি চাকরিজীবীদের আকর্ষণীয় সুবিধা দিচ্ছে আরব আমিরাত

বেসরকারি চাকরিতে যোগদান করলে নাগরিকদের আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেলসমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ, ধনাঢ্য আমিরাতিরা সরকারি চাকরিতে আগ্রহী হলেও বেসরকারি চাকরিতে বেশ অনীহা ছিল। ফলে এ বেসরকারি খাতে তাদের উৎসাহিত করতে ২০২১ সালে ৫ বছর মেয়াদে দেশটির সরকার হাতে নেয় ‘নাফিস’ নামে ২৪ বিলিয়ন আমিরাতি দিরহামের এক কর্মসূচি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এটি ব্যাপক সফলতা পায়।
সফল হওয়ায় নতুন করে ২০৪০ সাল পর্যন্ত কর্মসূচিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমিরাতি ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ঘানাম আল মাজরুই নাফিস প্রোগ্রামের মেয়াদ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, এর মূল লক্ষ্য হলো—নাগরিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি চাকরিদাতা ও তরুণ মেধাবিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। নাফিস কর্মসূচির আওতায় বেসরকারি আমিরাতি কর্মীদের বেতন সহায়তা, শিশু ভাতা, পেনশন সুবিধা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ইন্টার্নশিপ এবং পেশাগত দক্ষতা অর্জনে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার।
বর্ধিত এ সুবিধা আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হবে। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এ কর্মসূচি গ্রহণের পর বেসরকারি চাকরিতে ক্রমেই ঝুঁকতে থাকেন নাগরিকরা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে প্রোগ্রামটি চালুর পর এ পর্যন্ত পৌনে দুই লাখের বেশি আমিরাতি বেসরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন। যদিও সরকারের ১ লাখ ৭০ হাজার লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে কেবল বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতেই সাড়ে ৩ হাজার আমিরাতি কাজ করছেন। সবমিলিয়ে বর্তমানে দেড় লাখের বেশি সুবিধাভোগী আমিরাতি এখন প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতে কাজ করছেন।
এ কর্মসূচি ঘোষণার পর দেশটির নারীরা প্রাইভেট কোম্পানিগুলোতে কাজের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আমিরাতি ট্যালেন্ট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বাধিক ৭৪ শতাংশ নারী ‘নাফিস’ সুবিধা নিয়ে বেসরকারি চাকরি করছেন। কর্মসূচির আওতায় ৩৮ হাজার শিশুকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। তবে হালনাগাদ ও বর্ধিত কর্মসূচিতে সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করেছে সরকার। আগে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ৪টি শিশু ভাতা পেলেও নতুন নীতিতে পরিবারের প্রতিটি শিশুই এ ভাতা পাবে। শিশুদের মায়েরা প্রতি মাসে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ টাকার বেশি সরকারের কাছ থেকে পাবেন।
এ ছাড়া বেসরকারি চাকরিজীবী আমিরাতি পুরুষদের যোগ্য স্ত্রীরাও পাবেন একই সুবিধা। শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্যও দেওয়া হবে আলাদা সুবিধা। ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীরা দুই লাখ, ডিপ্লোমাধারীরা প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষিতরা পাবেন ৪ হাজার দিরহাম তথা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অতিরিক্ত সহায়তা। এর বাইরে আরও অনেক সুবিধা প্রদান করছে আরব আমিরাত সরকার।