গাজায় নিহত ৭৩ হাজার ছাড়াল, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা চলছে

ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ হাজার ১ জনে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ জনের বেশি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
গত অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির সময় পাঁচজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের দাবি, তারা হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বিচ্ছিন্ন হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যা হামাস-নিয়ন্ত্রিত সরকারের অংশ, জানিয়েছে যে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। মন্ত্রণালয় বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদাভাবে হিসাব প্রকাশ করে না। তবে জাতিসংঘ এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে তাদের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করে এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামাসের অবস্থানের কারণেই সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ফলে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান বন্ধ হয় এবং বাকি জিম্মিদের ফেরত দেওয়া হয়। তবে চুক্তির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেমন- হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠন এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অচলাবস্থার কারণেই অন্যান্য সব ইস্যুতে অগ্রগতি থেমে আছে।
রোববার উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিফা হাসপাতায় কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত পৃথক হামলায় আরও পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
প্রায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে উপত্যকার বড় অংশ। সীমান্ত ক্রসিংগুলো কার্যত বন্ধ থাকায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে।
