মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ বন্দিকে মুক্তি দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ১৩৯ জন মৃত্যুদণ্ড ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনি। ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (১৩ জুন) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গীর জানান, যে ১৩৯ জন বন্দিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকারী বা বাদী ছিল না। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কোনো পূর্ব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তারা।
তিনি আরও বলেন, বন্দি থাকা অবস্থায় কারাগারে এই ব্যক্তিদের আচরণে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন এবং দীর্ঘ সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। মূলত এই কারণগুলো বিবেচনা করে তারা সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ ক্ষমার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী, দেশটির সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ বলে বিচার বিভাগের প্রধানের বিশেষ সুপারিশক্রমে যে কোনো সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দিকে সাজা সম্পূর্ণ ক্ষমা করার কিংবা শাস্তি কমিয়ে দেওয়ার একক সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ নেতার। সেই আইনি ক্ষমতাবলে বিচার বিভাগের প্রধানের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ নেতা এই সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেন।
তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার এই বিশেষ সাধারণ ক্ষমা সব ধরনের অপরাধীর জন্য উন্মুক্ত বা প্রযোজ্য নয়। ইরানের আইন অনুযায়ী বেশ কিছু গুরুতর ও সুনির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বন্দিরা কোনোভাবে এই ক্ষমার আওতায় পড়বে না। এর মধ্যে রয়েছে—দেশের বিরুদ্ধে কোনো সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়া, সশস্ত্র বা দলবদ্ধভাবে সংগঠিত মাদক পাচার, সশস্ত্র ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান, অপহরণ, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ এবং গুরুতর ঘুষের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরা। এই ধরনের অপরাধে জড়িত বন্দিদের সাজা মওকুফের কোনো সুযোগ নেই।
