যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে যা বলছেন বিশ্লেষক

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে শুরুতে স্বল্পমেয়াদি অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানে হামলার পর তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তবে সম্প্রতি আবার খবরের শিরোনামে এসে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা জিতেছি, তবে বিষয়টি আরও এগোবে।’ ফলে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থান কী, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা করতে পারছেন না বিশ্লেষকরা।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ‘পরস্পরবিরোধী’ বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলেছে আলজাজিরা। আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের মার্কিন ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক স্কট লুকাস বলেন, ‘বাস্তবে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া, শেয়ারবাজারে ধস এবং সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে নিজ দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা চাপের কারণে কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন ট্রাম্প।’
লুকাস বলেন, ‘তাই তিনি একদিকে বলছিলেন—কেউ চিন্তা করবেন না, খুব শিগগিরই সব শেষ হয়ে যাবে। আবার পরের মুহূর্তেই বলছেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করব। এই দুটি বক্তব্য একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
লুকাস বলেন, যখন ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠরা বুঝতে পারবেন যে, তারা আমেরিকান জনগণের বড় অংশের সমর্থন হারাচ্ছেন—যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন—তখন পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আবার ১০০ ডলারের অনেক ওপরে উঠে যায়, কিংবা ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যদি মার্কিন শেয়ারবাজার বড় ধরনের পতনের মুখে পড়ে এবং যদি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকিও তৈরি হয়, তখনই তারা থামবে।’
লুকাসের ভাষায়, ‘তাদের থামার জন্য এমন কাউকে দরকার হবে, যে তাদের জন্য মুখরক্ষার একটি পথ তৈরি করে দেবে।’