logo

ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে

ভারত দৃঢ়ভাবে ইসরায়েলের পাশে থাকবে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দিনের সফরে বুধবার ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। সফরের প্রথম দিনে তিনি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দিয়েছেন।

যদিও তার এই ভাষণ ইসরায়েলের জোট সরকার ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেৎজ।

২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করা মোদি এবার নেসেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মোদি বলেন, এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিন ইস্যুসহ পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

হামাসের ‌‘সন্ত্রাসী হামলায়’ নিহতদের প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়ে মোদি বলেন, আমরা আপনাদের কষ্ট অনুভব করি, আমরাও শোকাহত। ভারত দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ইসরায়েলের পাশে আছে ও থাকবে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কারণ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসবাদ সব জায়গার শান্তির জন্যই হুমকি।

মোদি বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও যৌথ অবকাঠামো উন্নয়নে দিল্লি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবে সম্ভাবনার পূর্ণ পরিসর এখনো অর্জিত হয়নি।

তিনি ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে সমুদ্রপথ, জ্বালানি ও সাগরের নিচ দিয়ে ইন্টারনেট অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে এ উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে।

প্রতিরক্ষা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দুই দেশের অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন মোদি। আন্তঃসীমান্ত আর্থিক সংযোগ ও সর্বজনীন ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতেও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

কৃষিক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবদান প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে ভারতে কৃষি পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। ৪৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

মোদি বলেন, ২০০৬ সালে প্রথম ইসরায়েল সফরের সময় হাতে গোনা কয়েকটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র ছিল, এখন প্রায় প্রতিটি এলাকায় যোগব্যায়াম কেন্দ্র রয়েছে। তিনি আরও বেশি ইসরায়েলিকে ভারতে গিয়ে এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইসরায়েলি সমাজে ভারতীয় ইহুদিদের অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করেন। গবেষণা, হাসপাতাল, শিক্ষা ও যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভারতের ইতিহাস সমৃদ্ধ করতে ইহুদি ঐতিহ্যের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

মোদির ভাষণের আগে কয়েক দিন ধরে বিরোধী দলগুলো নেসেট অধিবেশন বর্জনের বিষয়ে আলোচনা চালায়। অভিযোগ ওঠে, কনেসেট স্পিকার আমির ওহানা প্রথা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক আমিতকে আমন্ত্রণ জানাননি।

শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নেয়, তারা কেবল মোদির ভাষণে উপস্থিত থাকবে। তবে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় কক্ষ ত্যাগ করবে। বেনি গান্টজের ন্যাশনাল ইউনিটি পার্টি শুধু ওহানার ভাষণ বর্জন করে, আরব দল হাদাশ-তাল পুরো অনুষ্ঠানই বর্জন করে।

নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের পাশে থাকার জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দুই দেশের ‘উন্মুক্ত কৌশলগত জোট’ আরও গভীর হওয়ার বিষয়টি উদ্‌যাপন করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ভারত ভারত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে জানে। ভারত ইসরায়েলকে সমর্থন করে কারণ তারা বোঝে যে ইসরায়েল বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রাচীরের ন্যায় কাজ করে।

এর আগে, বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানান নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু— যে সম্মান সম্প্রতি শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত সফরের সময় দেওয়া হয়েছিল।

মোদির সফরসূচিতে ইয়াদ ভাশেম স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন, জেরুজালেমের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে উদ্ভাবনী সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং কিং ডেভিড হোটেলে নৈশভোজের আয়োজন রয়েছে।