যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনার ‘ইতিবাচক’ ইঙ্গিত ইরানের

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা ‘ইতিবাচক’ পরিবেশে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। উভয় পক্ষই আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কানে প্রথম দফায় আলোচনা শেষে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ‘খুবই ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের অবস্থান তুলে ধরেছে।’ তিনি জানান, ভবিষ্যতে আলোচনার পদ্ধতি ও সময়সূচি পরে ঠিক করা হবে।
ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ‘আমাদের রাজধানীর (তেহরান কর্তপক্ষ) সঙ্গে পরামর্শের ওপরই পরবর্তী পথ নির্ভর করবে।’ এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পরই অগ্রগতির সিদ্ধান্ত আসবে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি স্পষ্ট করেন, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য কোনো বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হুমকি ও চাপ’ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক্স হ্যান্ডেলে জানান, উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালনকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি জানান, উভয় পক্ষই যথাসময়ে আবার বৈঠকে বসতে আগ্রহী। তবে আলোচনার ফলাফল দুই সরকারকেই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওমানের সহায়তায় পরোক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ নিরসনের পথ খুঁজছে দুই পক্ষ।
পরোক্ষ এ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক সহকারী মজিদ তখত-রাভানচি, মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক হামিদ ঘানবারি এবং অন্য ইরানি কূটনীতিকরা।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা ও অনানুষ্ঠানিক সহকারী জ্যারেড কুশনার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধানও আলোচনায় অংশ নেন।