
হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষিকার চড়ের আঘাতে শ্রেণিকক্ষেই প্রাণ হারিয়েছে ছয় বছর বয়সি এক শিশু শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের বিশাখাপত্তনমের একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে।
আলজাজিরা কর্তৃক যাচাইকৃত ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, একজন নারী শিক্ষক এক শিশুর অগোছালো ইউনিফর্ম ঠিক করে দেওয়ার পর পরই তার মুখে সপাট চড় মারেন। চড় খাওয়ার পর মুহূর্তেই শিশুটি শিক্ষকের কোলেই চিরতরে ঢলে পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মৃত শিশুটির নাম প্রণয় তেজ।
ঘটনার পর পর শিশুটির আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় জমান এবং দায়ী শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। প্রণয় তেজের বাবা আকুল কণ্ঠে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠে সুস্থভাবেই স্কুলে যাওয়ার জন্য জেদ করছিল। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় সে একেবারেই সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল।’
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) হোমওয়ার্ক সম্পূর্ণ না থাকায় ক্লাসরুমে শিশুটিকে মারধর করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে শিশুটির মারাত্মক কাশি শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়ে বলে পরিবারের দাবি।
সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েছে সেই মর্মান্তিক মুহূর্ত। ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক শিশুটিকে বকাবকি করছেন এবং শিশুটি কেঁদে কেঁদে হাত নাড়িয়ে কিছু অনুরোধ করার চেষ্টা করছে। এরপরই হঠাৎ করে শিশুটিকে চড় মারেন ওই শিক্ষক। চড় খাওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সে শিক্ষকের কোলে ঢলে পড়ে। বারবার তোলার চেষ্টা করলেও শিশুটির আর কোনো সাড়া মেলেনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশ এক্সে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘একজন বাবা হিসেবে ছোট্ট প্রণয় তেজের সঙ্গে যা ঘটেছে তা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শারীরিক শাস্তির কোনো স্থান নেই। শৃঙ্খলার নামে কোনো শিশুর ওপর সহিংসতা চালানো বরদাশত করা হবে না।’
ইতোমধ্যে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ পরিদর্শক পুডি ভারা প্রসাদ প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) জানিয়েছেন, শিশুটির বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সকল মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
২০১৮ সালে করা ভারতীয় এনজিও ‘অগ্রসার’-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটিতে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও নিম্ন আয়ের স্কুলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষকের হাতে শারীরিক শাস্তির শিকার হয়।



