logo

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ২ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ব্যাপক হতাহত

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ২ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ব্যাপক হতাহত

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দিমোনা ও আরাদে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলেও অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। খবর আলজাজিরার।

দিমোনা শহরে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে আঘাত হানে। নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত এই শহরটি ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় হামলাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং এতে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

একই সময়ে আরাদ শহরেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর শহরের একটি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।

ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ জানিয়েছে, আরাদের কেন্দ্রস্থলে আবাসিক ভবনের মাঝখানে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আঘাত করে, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

শনিবার (২১ মার্চ) জুড়ে দিমোনা এলাকায় একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয় এবং অন্তত সাতবার সাইরেন বাজানো হয়, যখন একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার চেষ্টা করে।

ইরান বলেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে ওই হামলায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইসরায়েল এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান বলে দাবি করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রে হামলাসহ কয়েকটি ঘটনায় ইসরায়েল দায় স্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল সাধারণত অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তবে এই ঘটনায় অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে সরাসরি আঘাত হানায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হতে পারে।