
মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্টী হুতিদের হামলা-পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ জুলাইয়ের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম শতকের ঘর অতিক্রম করল।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২১ মিনিট নাগাদ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.১৫ ডলার বা ২.২ শতাংশ বেড়ে ১০০.০৭ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭০ ডলার বা ১.৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪.৭৩ ডলারে পৌঁছায়।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের একাধিক কৌশলগত জ্বালানি স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে তেলের প্রধান স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন ধরে যায়, যা আঞ্চলিক এই যুদ্ধকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত ৩০ আগস্ট যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ৮০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছিল, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে, সম্প্রতি এই কৌশলগত সমুদ্রপথ দিয়ে তেল চলাচল প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে হঠাৎ যোগান ঘাটতির তীব্র ঝুঁকিতে গোল্ডম্যান স্যাকস, ব্যাংক অব আমেরিকা এবং এইচএসবিসিসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলো অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যত দর সম্পর্কিত তাদের আগের পূর্বাভাস সংশোধনের মাধ্যমে বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হওয়ায় আগস্টের শুরু থেকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর ৩০ এপ্রিল ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক পর্যায়ে বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬.৪১ ডলারে পৌঁছেছিল।


