সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল, হরমুজ বন্ধের দাবি নাকচ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল, হরমুজ বন্ধের দাবি নাকচ
ছবি: সংগৃহীত

স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনায় অংশ নিতে রোববার (২১ জুন) সকালে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগের মুহূর্তে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

Advertisement

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে এগিয়ে নিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এখন সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। এই আলোচনার স্বার্থে উভয় দেশ আগে থেকে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।

কিন্তু চুক্তির পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দেয়। এই ঘটনা চলমান আলোচনাকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স জানান, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কোনো প্রমাণ তিনি দেখেননি বলেও স্পষ্ট জানান।

সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৫৯ মিনিটে লেডি উষা ভ্যান্সকে সঙ্গে নিয়ে দেশটির এমেন বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছান জেডি ভ্যান্স। ভাইস প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে আয়োজিত এই শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের পাশাপাশি আরও অংশ নিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

বৈঠকের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, অতীতে চুক্তি বাস্তবায়নে অন্য পক্ষের ব্যর্থতার নজির রয়েছে। তাই ইরান এবার তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চাপ দেবে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিশেষ এ আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইতোমধ্যে বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ আলোচনায় কাতারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, মেহের, আলজাজিরা