logo

ইরানের ইউরেনিয়াম এখনই জব্দ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ইউরেনিয়াম এখনই জব্দ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো মুহূর্তে ইরানের মজুত করা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনই তেমনটা করার কোনো কারণ দেখছেন না তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই এটি (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) পেয়ে যেতে পারি। মনে হয় না আমরা চাইলে তারা আমাদের থামাতে পারবে। তবে এই মুহূর্তে এর কোনো প্রয়োজন নেই ‘

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক উপাদানগুলো মাটির নিচে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের দূরবীক্ষণ ক্যামেরা সরাসরি সেগুলোর ওপর নজর রাখছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ করতে একটি বড় চুক্তি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হতে চলেছে বলে ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। তবে এখন তিনি যেভাবে সুর বদলে বলছেন যে, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বের করে আনার জন্য কোনো চুক্তির দরকার নেই—রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আগামী জুলাই মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তবে এই সফরের আগে তিনি আবারও ন্যাটো মিত্রদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন জোটের মিত্র দেশগুলোর যেভাবে এগিয়ে আসা উচিত ছিল, তারা তা করেনি উল্লেখ করে ট্রাম্প তাদের তীব্র সমালোচনা করেন।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কী—তা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও তিনি নতুন কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো চুক্তির মূল শর্ত হবে দুটি; প্রথমত, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, বন্ধ থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।

নিজের দাবির বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যেকোনো এক উপায়ে জিতব—তা সামরিক শক্তির মাধ্যমে হোক কিংবা কাগজে-কলমে চুক্তির মাধ্যমে হোক।’

ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্প তার মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি নিজে থেকে দেখা করতে চাই না, যদি কখনও বৈঠক হয় আমি সম্মানিত বোধ করব।’

তিনি আরও জানান, চুক্তি সম্পন্ন হলে খামেনির সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই এবং তিনি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করেই কথা বলবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় লেবানন প্রসঙ্গও টেনে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘লেবানন যদি কিছুটা শান্তি পায় তবে তা খুব ভালো হবে। দেশটি বহু বছর ধরে ক্রমাগত আক্রমণের শিকার এবং সব সময় একটি দুর্বল পক্ষ হিসেবে মার খাচ্ছে। এই পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার।’

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ—উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান ট্রাম্প। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে।’