ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে: দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে আছে, তবে তা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) এক কংগ্রেসনাল শুনানিতে তিনি এ কথা জানান।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে আলোচনা করেন। খবর বিবিসি
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রথম প্রকাশ্য ব্রিফিং। এর ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা পদত্যাগ করে বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
গ্যাবার্ড, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয় করেন, জানান যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ধারণা করেছিল।
তিনি বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনও টিকে আছে, তবে নেতৃত্ব এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর হামলার কারণে তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে।’
এই শুনানিতে সিআইএ, এফবিআই, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ বারবার জানতে চাইলে গ্যাবার্ড এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেননি যে তিনি ইরানকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখেছেন কি না। তিনি বলেন, কোনটি তাৎক্ষণিক হুমকি, তা নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল প্রেসিডেন্টের।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই উভয় দলের আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কতটা অবগত ছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হুমকি ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না এবং তিনি এ যুদ্ধের সমালোচনা করেন।
তবে সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এই মতের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ধারাবাহিক হুমকি এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।
গ্যাবার্ড আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ১২ দিনের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে ইরান, তবে তারা এখনও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মানতে রাজি নয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল দেশটির সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
লিখিত বক্তব্যে গ্যাবার্ড দাবি করেছিলেন, এসব হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখা যায়নি। তবে তিনি প্রকাশ্য বক্তব্যে এ অংশটি পড়েননি। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সময় কম থাকায় কিছু অংশ বাদ দিতে হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার তখন মন্তব্য করেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অংশগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে আরও জানতে চাওয়া হয়, ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কতটা জড়িত ছিলেন। মেইনের স্বতন্ত্র সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং জানতে চান, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় তারা উপস্থিত ছিলেন কি না। র্যাটক্লিফ বলেন, তিনি বহু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তবে নির্দিষ্ট কোনো বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিল কি না, এমন প্রশ্নও ওঠে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত এ পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
র্যাটক্লিফ বলেন, প্রেসিডেন্ট নিয়মিত গোয়েন্দা ব্রিফিং পান। তিনি আরও জানান, পেন্টাগন আগে থেকেই আশঙ্কা করেছিল যে ইরান অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে এবং সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
গ্যাবার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল যে সংঘাতের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা বিভাগ আগেভাগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।