স্পেনকে ন্যাটো থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতা না পেয়ে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অসন্তোষের জেরে স্পেনকে ন্যাটো জোট থেকে সাময়িকভাবে বের করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন।
পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধে নিজেদের আকাশপথ এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় মিত্র দেশগুলোর ওপর বেজায় চটেছে ওয়াশিংটন। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনে আকাশপথ ও ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু স্পেনসহ বেশ কিছু দেশ ইরান আক্রমণে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়নি। এর শাস্তিস্বরূপ স্পেনকে জোট থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং অসহযোগিতা করা দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বাদ দেওয়ার আলোচনা চলছে। এমনকি ব্রিটেনের ওপর চাপ তৈরি করতে বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবিকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে নৌবাহিনী না পাঠিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
পেন্টাগনের মুখপাত্র কিংসলে উইলসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় মিত্রদের পাশে থাকলেও বিপদের সময় তারা এগিয়ে আসেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এখন নিশ্চিত করতে চায় যেন ন্যাটো দেশগুলো শুধু কাগজের বাঘ হয়ে না থেকে বাস্তবেও দায়িত্ব পালন করে।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, ইরান আক্রমণের জন্য নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দেবেন না তারা।
অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধে যোগ দেওয়া মানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, যা তারা চায় না।
সব মিলিয়ে ৭৬ বছরের পুরোনো এ সামরিক জোট এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, যেখানে ন্যাটোর ঐক্য ও ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।