এআই নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক তদারকির আহ্বান প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর আন্তর্জাতিক তদারকির আহ্বান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে নতুন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের একটি ‘বিশ্ববাদী ফন্দি’ (globalist scheme) হিসেবে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবারের ভাষণে ট্রাম্প জানান, মার্কিন সরকার এখন থেকে তাদের সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহার করবে। অন্য দেশগুলোও এই পরিভাষা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, শব্দটি তার কাছে ‘আরও ভালো’ এবং ‘আরও সঠিক’ বলে মনে হয়।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীদের বক্তব্যও নাকচ করেন ট্রাম্প। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অতীতের সতর্কবার্তার সঙ্গে এআই নিয়ে বর্তমান সতর্কতাকে তুলনা করে তিনি বলেন, নতুন প্রতিটি বড় প্রযুক্তির মতো এআইয়ের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বৈঠক ও বিভিন্ন বক্তব্যের আগে ২০টিরও বেশি দেশের নেতারা উন্নত এআইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থার আহ্বান জানান। তাদের আশঙ্কা, প্রযুক্তিটির অগ্রগতি একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এ উদ্যোগে এআই খাতে শীর্ষ দুই শক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে নেই।
ট্রাম্প জাতিসংঘে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে কোনো বৈশ্বিক পরিকল্পনা তৈরির প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে।’
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন যেভাবে অভিন্ন অস্তিত্বগত ঝুঁকি মোকাবিলায় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছিল, এআইয়ের ক্ষেত্রেও তেমন সংলাপ প্রয়োজন।
এআই-সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে একটি যোগাযোগ চ্যানেল তৈরির বিষয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলোচনা করছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের আগে এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
দুই দেশই এআই প্রযুক্তিতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় রয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এআই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।
ট্রাম্প শনিবারও এআই নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি তথাকথিত অযৌক্তিক আশঙ্কার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি এআই শিল্পের ‘ধ্বংস’ হতে দেবেন না।
অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জুলাইয়ে বলেছিলেন, এআই কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয় এবং প্রযুক্তিটির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
