logo

কাতার এনার্জিতে ইরানের হামলা, বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ

কাতার এনার্জিতে ইরানের হামলা, বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ

ইরানের হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি। একই সময়ে ড্রোন হামলার জেরে অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগারের কিছু ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে সৌদি আরবও।

সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাতার এনার্জি জানায়, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইয়িদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে তাদের পরিচালিত স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার কারণে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। 

ঘোষণার পরপরই ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এর আগে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন দেশটিতে আঘাত হানে। একটি ড্রোন মেসাইয়িদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত করে এবং অন্যটি রাস লাফান শিল্পনগরীতে কাতার এনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে। হামলায় কোনো হতাহত না হলেও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার সকালে রাস তানুরা অয়েল রিফাইনারিতে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। হামলা প্রতিহত করার সময় ছোট একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এতে খুব সামান্য ক্ষতি হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, তারা এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও যাচাই করেছে। সেখানে উপসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত তেল স্থাপনাটি থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
রাস তানুরা তেল পরিশোধনাগারের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। এটি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ তেল শোধনাগারগুলোর একটি এবং সৌদি জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এসব হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির দুই প্রান্তে তেলবাহী জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এবং কাতারের অধিকাংশ গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সামুদ্রিক পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কায় বৈশ্বিক তেলের দামও বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে এর ফলে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে না।
এর আগে ইরান রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলে হামলা চালানোর পর সৌদি আরব তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। রোববার যুক্তরাষ্ট্র, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের আঞ্চলিক হামলার নিন্দা জানিয়ে আত্মরক্ষার অধিকার পুনর্ব্যক্ত করে।

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রব গেইস্ট পিনফোল্ড আল জাজিরাকে বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান পরিকল্পিতভাবেই হামলা চালাচ্ছে। এই দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অনাগ্রহী, কারণ এটি তাদের নিজস্ব যুদ্ধ নয়। ইরান হয়তো আশা করছে, তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি ।’