রামমন্দির থেকে দানের কোটি টাকা-গয়না উধাও, বিতর্কে যোগী সরকার

উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার রামমন্দির থেকে দানের কোটি কোটি টাকা, গয়না চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার।
কীভাবে দানের টাকা, গয়না উধাও হয়ে গেল তা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষকে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।
রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম, হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন লখনৌয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পান্থ। এ ছাড়াও লখনৌ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস, অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীলরতন কুমার।
সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আর ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, রামমন্দিরে দান করা কয়েক কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। তিনি বিচার বিভাগকে বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
ওই পোস্টে তিনি কোটি কোটি টাকার অনুদানসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মন্দির ট্রাস্টকে ঘিরে পরিস্থিতিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্তব্য করতে গিয়ে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় বলেন, ট্রাস্ট নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা চালায়। এই ধরনের কার্যক্রম বেশ কয়েক দিন ধরে চলে এবং বর্তমান নিরীক্ষা প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু ধরা পড়েনি।
হিন্দুস্তান টাইমসকে ট্রাস্টের এক সদস্য বলেন, শুধুমাত্র এসআইটির একটি নিরপেক্ষ তদন্তই এই কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে পারে। ট্রাস্টের নিজস্ব তদন্ত নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে।
বিতর্কটি আরও তীব্র হয়েছে যখন সাবেক বিজেপির সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং দাবি করেছেন যে, তিনি অনুদানের অপব্যবহারের বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রাম মন্দির ট্রাস্ট দাবি করেছে, মন্দির ও অযোধ্যার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। ট্রাস্টের মতে, এর পেছনে একটি বড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এবং প্রকৃত সত্য বের করে আনা জরুরি।
এদিকে, বিতর্ক বাড়তে থাকায় ও নগদ অনুদান গণনার কাজে যুক্ত এক কর্মচারীর বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব রাজ্য সরকারের সমালোচনা আরও জোরালো করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের ব্যক্তিরা খুব দূরে নয়, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন মহলের কাছাকাছিই থাকতে পারে।
এক্সে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, সত্য জানতে হলে খুব দূরে খোঁজার দরকার হবে না। এমনকি পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে না পারলে তার দল সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায় এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কর্মরত হাইকোর্টের একজন বিচারপতির তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া
এই বিতর্কের প্রতিক্রিয়ায় উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সূর্য প্রতাপ শাহী বলেছেন, ট্রাস্টটি ইতোমধ্যে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে এবং তাদের নিয়মকানুন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি মূলত ট্রাস্টের এখতিয়ারভুক্ত।
বিজেপির প্রবীণ নেতা রজনীশ সিংও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে ট্রাস্টটির আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, অনুদান, ব্যয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং জমি সংক্রান্ত লেনদেনের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
