আলজাজিরার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াল ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা আধিপত্য ও দখলদার ইসরায়েলের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরেই নির্ভীক তথ্য প্রচার করে আসছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। বিশেষ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের সব সময়ের আপডেট সম্প্রচার করে আসছিল আলজাজিরা। এ জন্য সংবাদমাধ্যমটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইসরায়েল। এবার সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ানো হলো।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারাহির সই করা এক আদেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে নিজেদের দেশে আলজাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের সম্প্রচার ও কার্যালয় পরিচালনার আপাতত বন্ধই থাকছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
নতুন আদেশ অনুযায়ী, ইসরায়েলের ভেতরে আলজাজিরাকে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একাধিক সম্প্রচার ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে। একই সঙ্গে ইউটিউবকেও এই নেটওয়ার্কের সম্প্রচার ইসরায়েলের অভ্যন্তরে চালু রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা দেশটিতে আলজাজিরার কার্যক্রম বন্ধের পক্ষে ভোট দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি বিতর্কিত আইন পাস হয়, যার মাধ্যমে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশি গণমাধ্যমের সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়। আইনটি পরে ‘আলজাজিরা আইন’ নামে পরিচিতি পায়।
ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে অবস্থিত আলজাজিরার কার্যালয়ে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে বিভিন্ন সম্প্রচার সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করা হয় এবং কার্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট এই আইনের মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করে।
জেরুজালেম ও রামাল্লায় আলজাজিরা আরবির ব্যুরোপ্রধান ওয়ালিফ আল-ওমারি জানান, ইসরায়েলের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রায় নয় দিন আগেই অবহিত করেছে যে, দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনী আলজাজিরার সম্প্রচারকে ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে দেখছে।
আলজাজিরাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০১৭ সালে জেরুজালেমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এরপর ২০২১ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলজাজিরার কার্যালয় ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আরও এক কঠোর আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।