logo

ইরানের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াচ্ছে এবং সামরিক পরিকল্পনা এখন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রসারিত করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ফ্লোরিডার টাম্পায় অতিরিক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা পাঠানোর অনুরোধ করেছে, যা কমপক্ষে ১০০ দিন এবং সম্ভবত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে সাহায্য করবে।

এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বড় পদক্ষেপ। এর মানে, যে সামরিক অভিযান তারা দেখাচ্ছে তার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান চার-পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, তবে এটি তার চেয়ে বেশি সময়ও চলতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানায়, ওয়াশিংটন দ্রুত আরও কর্মী ও সম্পদ একত্রিত করছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে শুরু হওয়া সংঘাতের জন্য তারা আগে অনেকটা অপ্রস্তুত ছিল। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত এত বড় সামরিক অভিযান কয়েক মাস আগে পরিকল্পনা করা হয়, কিন্তু হঠাৎ আক্রমণ শুরু হওয়ায় পেন্টাগনের কর্মকর্তারা পরিণতি সঠিকভাবে অনুমান করতে পারেননি।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা প্রথমে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের পছন্দ হিসেবে দেখেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬৫-এরও বেশি শিশু, যারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুইবারের হামলায় মারা গেছে। এটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনা।

এ ছাড়া ইরানের হামলার পর কুয়েতে ছয় মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত হয়েছে।

এই সংঘাত এখন ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সেই সঙ্গে তার রাজনৈতিক ভিত্তিতে বিভাজন আরও গভীর করছে। অনেক সমর্থক মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। যদিও ইসরায়েলের পাশে থাকা পরিস্থিতি চাপ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে বাধ্য করেছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জানতাম একটি ইসরায়েলি পদক্ষেপ হতে চলেছে। আমরা জানতাম ইরান আমেরিকান বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করবে, এবং যদি আমরা আগে থেকেই ব্যবস্থা না নিতাম, তাহলে আরও বেশি হতাহতের মুখোমুখি হতাম।’

রুবিওর মন্তব্যই স্পষ্ট করে, ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে নিয়ে গেল, তবুও ওয়াশিংটন তেলআবিবকে আটকাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধে অংশ নিলেন। রোববার তিনি বলেন, ইরানের উপর হামলা ‘যুক্তরাষ্ট্র, আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সহায়তায়’ পরিচালিত হয়েছে।

নেতানিয়াহু একে দশকব্যাপী লক্ষ্য অর্জনের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই শক্তির জোট আমাদের ৪০ বছর ধরে যা করতে চেয়েছি তা করতে সাহায্য করছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এবং আমরা তা করব।’