এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ ভারতীয় সংবিধানের মূল অলংকরণ শিল্পীর গোটা পরিবার

মুর্শিদাবাদের শেষ নবাব পরিবারের পর এবার ভারতীয় সংবিধানের মূল অলংকরণ শিল্পীর গোটা পরিবারের নাম বাদ পড়ল ভারতের ভোটার তালিকা থেকে। পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কারণে এবার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে ভারতীয় সংবিধানের মূল অলংকরণ শিল্পী আচার্য নন্দলাল বসুর পরিবারের। প্রয়াত নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেনসহ তার গোটা পরিবারের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এসআইআর সংক্রান্ত এমন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে রীতিমতো বিতর্ক চরমে উঠেছে।
ভারতের সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিকে যিনি নিজের তুলিতে শিল্পময় রূপ দিয়েছিলেন, সেই নন্দলাল বসুর পরিবারের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ, ৮৮ বছরের সুপ্রবুদ্ধ সেন, তার স্ত্রী দীপা সেন এবং গৃহসহায়কের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথমে তাদের যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়। নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে নথিপত্র খতিয়ে দেখেন।
সুপ্রবুদ্ধ সেনের দাবি, তিনি শিক্ষাগত প্রশংসাপত্র, পরিচয়পত্র এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য জমা দিয়েছিলেন, তবুও কোনো লিখিত ব্যাখ্যা ছাড়াই তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস একে পরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বসু পরিবারের বিগত কয়েক বছর ধরেই স্থায়ী নিবাস কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিচড়িত শান্তিনিকেতনে। এমন ঘটনায় সেখানকার বুদ্ধিজীবী মহলেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার ওপর আঘাত। এখন নজর নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
এর আগে মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় ৩০০ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে দেয় নির্বাচন কমিশন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।