মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি যুবককে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেল এফবিআই

আন্তর্জাতিক শিশু নির্যাতন চক্র পরিচালনার দায়ে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে থাকা এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এফবিআই। ২৮ বছর বয়সি ওই যুবকের নাম জোবাইদুল আমিন। কয়েক বছর ধরে পলাতক থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন গোয়েন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এফবিআই তাকে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করেছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে শিশুদের নির্যাতন ও পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে তাকে খুঁজছিল মার্কিন প্রশাসন। দীর্ঘ তদন্তের পর মালয়েশিয়ায় তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত মার্কিন লিগ্যাল অ্যাটাশে মালয়েশিয়া সরকার এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সহায়তায় জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এফবিআইয়ের ‘অ্যাঙ্করেজ’ শাখা তাকে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নিয়ে যায়। আজই তাকে আলাস্কার আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সরকারি অ্যাটর্নি অফিসের তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি পৃথক ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন এবং তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে আপত্তিজনক ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।
তদন্তকারীদের দাবি, আমিনের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু নির্যাতনমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন এবং ২০২২ সালে সেখানেও তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে দুই দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘ সমন্বয়ের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
ইউএস অ্যাটর্নি এস লেইন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নির্যাতন করা একটি জঘন্য অপরাধ। এর কবলে পড়ে অনেক শিশু তাদের শৈশব হারাচ্ছে।
এফবিআই অ্যাঙ্করেজ শাখা অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ অ্যান্টনি জাং জানিয়েছেন, শত শত শিশুকে টার্গেট করে এই চক্র গঠিত হয়েছিল। যারা ছবি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের ছবি ও তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে আমিনের সাজা ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে মামলাটি এফবিআই-এর শিশু শোষণ ও মানব পাচার টাস্ক ফোর্সের একটি বড় তদন্তের অংশ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।