logo

সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লি লকডাউন, অভিজিৎ দিপকেসহ আটক হাজারও নেতাকর্মী

বিবিসি
বিবিসি
সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লি লকডাউন, অভিজিৎ দিপকেসহ আটক হাজারও নেতাকর্মী
নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের সময় এক বিক্ষোভকারী একটি প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরে আছেন। ছবি: বিবিসি নিউজ

ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে এক বিশাল গণসমাবেশের ডাক দিয়েছিল যুবনেতৃত্বাধীন দল ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই আজ সকাল থেকে পুরো সেন্ট্রাল দিল্লিকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য সেনাশিবিরে পরিণত করেছে মোদি সরকার।

বিক্ষোভের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। পুরো এলাকা হলুদ লোহার ব্যারিকেড ও দাঙ্গা দমনের বিশেষ সাঁজোয়া যান দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।

যন্তর মন্তরে ব্যাপক ক্র্যাকডাউন: শীর্ষ নেতারা আটক

আজ ভোর থেকেই দিল্লির রাস্তায় নামে হাজার হাজার পুলিশ ও প্যারা মিলিটারি ফোর্স। সমাবেশ স্থলে পৌঁছানোর আগেই রাজধানীজুড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও মূল সমন্বয়ক অভিজিৎ দিপকে, আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দুই মুখ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা, সিজেপির আইনি শাখার প্রধান অ্যাডভোকেট রত্না সিং ও উপমহাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমর্থক ধ্রুব রাঠী।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দিল্লি: ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন চলাচল স্থগিত

আন্দোলনকারীরা যাতে কোনোভাবেই দিল্লিতে জড়ো হতে না পারে, সেজন্য পুরো দিল্লির গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

মেট্রো অচল: দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) দিল্লির লাইফলাইন খ্যাত রাজীব চক, নতুন দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও কাশ্মীরি গেটসহ মোট ৪৫টি ব্যস্ততম মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বাহির পথ পুরোপুরি সিল করে দিয়েছে।

রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: ভারতীয় রেলওয়ে আজ ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টার জন্য নতুন দিল্লি এবং হযরত নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশনে সমস্ত দূরপাল্লার ও লোকাল ইনকামিং ট্রেন প্রবেশ স্থগিত ঘোষণা করেছে।

রাস্তায় ব্যারিকেড: দিল্লির প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের ৩০টি পয়েন্টে ট্রাফিক ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো গাড়িকে সেন্ট্রাল দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধী দলগুলো

দিল্লির এই নজিরবিহীন লকডাউন ও ধরপাকড়কে 'গণতন্ত্রের কালো দিন' বলে আখ্যা দিয়েছে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ঢাকা বা অন্য কোনো বড় আন্দোলনের মতো রূপ না নেয়, এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুরো ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজন (NCR) জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দিল্লির বিভিন্ন মোড়ে বিচ্ছিন্নভাবে যুব সমাজ ও ছাত্র ভলান্টিয়ারদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।