logo

হরমুজ প্রণালি সচল করতে চায় যুক্তরাজ্য-নেতৃত্বাধীন ৪০ দেশ

হরমুজ প্রণালি সচল করতে চায় যুক্তরাজ্য-নেতৃত্বাধীন ৪০ দেশ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে চায় যুক্তরাজ্য-নেতৃত্বাধীন ৪০ দেশের জোট। এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে  চলমান অচলাবস্থা নিরসনে ৪০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সম্মেলনের বিষয়ে বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরুদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য সব কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করা হবে।’ ইরানের পাল্টা আক্রমণের হুমকির মুখে বর্তমানে এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দেশের কাজ নয়। একইসঙ্গে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের ইরান যুদ্ধে সমর্থন করতে না পারার কারণে সমালোচনা করেছেন। এছাড়া ট্রাম্প ন্যাটো থেকে বের হয়ে যাওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৪০টি দেশ এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। তারা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি অবরোধের চেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নিরাপদে ওই অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেছেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য নেতৃত্বাধীন জোটের কোনো দেশই ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সামরিক নয়, কেবল অসামরিক উপায়ে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমাধান চায় ৪০ দেশের জোট। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো আগ্রহ তাদের নেই। 

এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি সচল করার সর্বোত্তম উপায় হলো ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা।

এই সম্মেলনকে ‘হরমুজ প্রণালি’ ইস্যু সমাধানে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি কর্মকর্তা পর্যায়ে ‘কার্যকরী বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হবে।