logo

ভারতকে অন্য দেশ থেকে তেল কেনার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ভারতকে অন্য দেশ থেকে তেল কেনার প্রস্তাব ট্রাম্পের

রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন ইস্যুতে মস্কোকে কোণঠাসা করতে নয়াদিল্লির ওপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরান থেকেও তেল আমদানি করে থাকে ভারত। এবার তেহরানকে ঠেকাতে ভারতকে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া কিংবা ইরান থেকে নয়, বরং লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প। এ সংক্রান্ত চুক্তিও নাকি সম্পন্নের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।

এদিন ওয়াশিংটনের এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে যাত্রার পথে সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে ‘চুক্তির ভিত্তিটা’ ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য এমন একসময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে ভারত রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

ট্রাম্প আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য চীনকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যোগদানের জন্য স্বাগত জানানো হবে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর একটি নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।

আগে গত বছরের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করলে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল, যা ভারতের তেলের আমদানি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৯ সাল থেকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম দিকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত কৌশলগতভাবে ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে ফের তেল আমদানির পথ খুঁজছে, যার ফলে ২০২৫ সালে ইরান থেকে ভারতের তেল আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, গত বছর জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ভারত ইরান থেকে প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ডলারের খনিজ তেল ও পরিশোধিত পণ্য আমদানি করেছে, যা ইরানের সামগ্রিক রপ্তানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

তবে ভারতের তেল কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার নাক গলানো বাঁকা চোখে দেখছে নয়াদিল্লি। তারা রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।