যুক্তরাষ্ট্রে হামলায় সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উন এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সলিড-ফুয়েলচালিত ইঞ্জিনের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ।
এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম এই পরীক্ষাকে দেশের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে চায় পিয়ংইয়ং।
পার্লামেন্টে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে কিম দেশটিকে স্থায়ী পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক ‘সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ জন্য দায়ী করেন।
কেসিএনএ জানায়, নতুনভাবে উন্নত করা এই ইঞ্জিনে কম্পোজিট কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ চাপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোটন, যা গত সেপ্টেম্বরে পরীক্ষিত একই ধরনের ইঞ্জিনের তুলনায় বেশি। এই শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্য হতে পারে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড স্থাপন করা, যাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করেছে। সেগুলোর পাল্লা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষ করে সলিড-ফুয়েলচালিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন। বিপরীতে, পুরোনো লিকুইড-ফুয়েলচালিত ক্ষেপণাস্ত্রে উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয়, যা এগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, কার্যকর আইসিবিএম তৈরিতে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে, বিশেষ করে ওয়ারহেডের বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ সক্ষমতা নিশ্চিত করা। যদিও অন্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষার অভিজ্ঞতায় উত্তর কোরিয়া এসব বাধা অতিক্রম করতে পারে।
২০১৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনীতি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করেছে। সম্প্রতি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির এক কংগ্রেসে কিম আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও, পূর্বশর্ত হিসেবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহার করতে ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানান।