logo

যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন ট্রাম্প, বিপজ্জনক যুগের সূচনা

যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করছেন ট্রাম্প, বিপজ্জনক যুগের সূচনা

দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার এখন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারের হিসাব রাখা, অফিসের কাজ দ্রুত শেষ করা, সরকারি কার্যক্রমে সহায়তা—এসব ক্ষেত্রেই এর উপস্থিতি বাড়ছে। এমনকি রাতে শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নতুন নতুন গল্পও তৈরি করে দিচ্ছে এআই। কিন্তু সামরিকীকরণ বা যুদ্ধক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়, যা এখন গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

গত তিন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন অন্তত দুবার এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছে বলে খবর এসেছে। সর্বশেষ ঘটনায়, ইরানে হামলার ক্ষেত্রে এআইয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানেও এআই ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদুরোকে আটকের অভিযানে কাজে লাগানো হয় অ্যানথ্রপিকের তৈরি ‘ক্লদ’ নামের একটি এআই মডেল। অনেকেই এটিকে চ্যাটজিপিটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করেন।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সামরিক কাজে এআই ব্যবহারের কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করতে চাইলেও তা নিয়ে তার সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ তৈরি হয়। পরে ওপেনএআই পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি করে, যদিও তারা দাবি করেছে যে তাদের নীতিমালায় নিরাপত্তা সুরক্ষা রয়েছে।

গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ক্রিস স্টকেল ওয়াকার বলেন, ‘যে প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ই-মেইল সংক্ষেপ করা বা চাকরির আবেদনপত্র লেখায় সাহায্য করার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটিই এখন তথ্যকে সহিংসতায় রূপান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি রূপান্তর।’

এআই সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলে কী হতে পারে, অতীতে এ নিয়ে আলোচনা ছিল মূলত অ্যাকাডেমিক পরিসরে। কিন্তু বাস্তবে সামরিক অভিযানে এর ব্যবহার শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। লেখকের মতে, ইতিহাসবিদরা ভবিষ্যতে এই সময়টিকে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখতে পারেন। যেমন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের ঘটনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

লেখক বলেন, ‘এত দিন বড় ধরনের অস্ত্র মূলত ভয় দেখানোর জন্য রাখা হতো, ব্যবহার করা হতো না। কিন্তু এআইচালিত সামরিক সিদ্ধান্ত দ্রুত ও আক্রমণাত্মক হতে পারে। বিভিন্ন মহড়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, এআইয়ের যুগে সিদ্ধান্তগ্রহণে ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বাড়তে পারে।’

এই পরিস্থিতিতে কী করা সম্ভব? লেখকের মতে, ‘খুব বেশি কিছু নয়। সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিত ছিল। একসময় ডেমিস হ্যাসাবিস তার প্রতিষ্ঠান ডিপমাইন্ড বিক্রির সময় সামরিক কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার না করার শর্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে অ্যালফাবেট সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক নিয়ম, স্বচ্ছতা ও নজরদারি নিশ্চিত হয়। তা নাহলে বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলো যদি সাধারণ এআই মডেলকে সরকার উৎখাতের অভিযানে ব্যবহার শুরু করে, তাহলে বিশ্ব আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক যুগে প্রবেশ করবে।

লেখক: ক্রিস স্টকেল ওয়াকার, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ

গার্ডিয়ানের মতামত বিভাগ থেকে ‘ট্রাম্প ইজ ইউজিং এআই টু ফাইট হিজ ওয়ারস–দিস ইজ আ ডেঞ্জারাস টার্নিং পয়েন্ট’ শীর্ষক কলাম অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ শাখাওয়াত হুসাইন।

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন এবং এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]