ট্রাম্পের ফোনকলে ইরানে পাল্টা হামলা পেছাতে ‘রাজি’ নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ইরানে পাল্টা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করতে ‘রাজি’ হয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটনকে আরও কয়েকটা দিন সময় দিতে ট্রাম্পের অনুরোধ রক্ষা করেছে তেল আবিব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে। দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের হামলার পরপর রোববার (৭ জুন) রাতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা, তিন মাস ধরে চলা এ যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ওয়াশিংটন। ফোনালাপের শুরুতে নেতানিয়াহু এই অনুরোধের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং ইরানে সরাসরি হামলার জন্য ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্মতি দিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামি রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
আইআরজিসি জানায়, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের হামলার জবাব দিতে উত্তর ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা। হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুই নেতার এই ফোনালাপকে বেশ শান্তিপূর্ণ ও শান্ত মেজাজের বলে বর্ণনা করেছেন। গত সপ্তাহে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল, যেখানে ট্রাম্প জনসমক্ষে নেতানিয়াহুকে গালিগালাজ ও চিৎকার করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে আজ রাতের ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মোটেও উত্তেজিত হননি বা গলার স্বর উঁচুতে তোলেননি।
ফোনালাপের পর হোয়াইট হাউসের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি হামলা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কিছুটা মূল্যবান সময় বের করতে পেরেছেন।
এই মুহূর্তে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বড় কোনো হামলার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এখন চুক্তির একদম শেষ মুহূর্তে বা চতুর্থ কোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তিকে কেন আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলব? প্রেসিডেন্ট মনে করেন, এখন এই যুদ্ধ শেষ করার উপযুক্ত সময়।’
অবশ্য ইসরায়েলে এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা পরও নেতানিয়াহু তার দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বিষয়ে জরুরি বৈঠক করছিলেন।
সংবাদমাধ্যমটির আরেক প্রতিবেদনে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আজ সকালে বৈরুতে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার পেছনে হোয়াইট হাউসের কোনো সবুজ সংকেত বা অনুমোদন ছিল না। মূলত ইসরায়েলের ওই হামলার জের ধরে ইরান ক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
