কেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণায় বিলম্ব

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট। পরিষদের বেশির ভাগ সদস্য পরবর্তী নেতা নির্বাচনে একমত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে এখনও কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী মীরবাগেরি।
রোববার (৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ। দেশটির ধর্মীয় কমিটির এই সদস্য বলেন, একজন প্রার্থীকে নিয়ে পরিষদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঘোষণা করার আগে ‘কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় সমাধান করতে হবে’।
এদিকে পরিষদের আরেক সদস্য মোহসেন হায়দারি আলেকাসির জানান, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সদস্যরা সরাসরি বৈঠকে বসতে পারছেন না। তার ভাষায়, ‘এই পরিস্থিতিতে নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য সামনাসামনি বৈঠক করা সম্ভব নয়। তবে সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প ইতোমধ্যেই বেছে নেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ সদস্য তাকে সমর্থন করছেন।’
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় সংস্থা অ্যাসেম্বালি অব এক্সপার্ট দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তদারকির দায়িত্বে থাকে।
তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, পরিষদ ইতোমধ্যেই প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত সপ্তাহে একটি অনলাইন অধিবেশনে এই ভোটাভুটি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা উত্তেজনা ও ইরানের স্থাপনাগুলোর ওপর চলমান সামরিক হামলার কারণে এই বৈঠক দূরবর্তীভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে পরিষদের ভেতরে বিতর্ক রয়েছে। কিছু সদস্য সতর্ক করেছেন, যদি মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্রে পরিবারতন্ত্রের ধারণা শক্তিশালী হতে পারে। সমালোচকদের আরেকটি প্রশ্ন হলো, মোজতবা খামেনির ধর্মীয় মর্যাদা ও যোগ্যতা কি সর্বোচ্চ নেতার পদের ঐতিহ্যগত ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে কি না।
সূত্রগুলো বলছে, কয়েকজন সদস্য হুমকি দিয়েছেন যে আরও আলোচনা ছাড়া যদি ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে তারা ভবিষ্যৎ বৈঠক বয়কট করতে পারেন বা পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এই মতবিরোধের কারণেই পরিষদের নেতৃত্ব আপাতত নতুন সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বিলম্বিত করেছে।