logo

নমনীয়তার সুর যুক্তরাষ্ট্রের, বিশ্বাস করছে না ইরান

নমনীয়তার সুর যুক্তরাষ্ট্রের, বিশ্বাস করছে না ইরান

সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনা এবং ইরানের ওপর থেকে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সুর নরম করার আভাস দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই আপাত ‘নমনীয়তার’ ওপর আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। তেহরানের সাফ কথা, তারা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের একটি স্থায়ী ও স্থাপিত সমাধান চায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।

ট্রাম্পের এ বার্তাকে এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পরিণতির বিষয়ে তার সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এ বার্তার কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন আগেই আভাস দিয়েছিল যে এ মিশন সফল করতে প্রায় ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।

এদিকে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও ৩০ দিনের জন্য শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবরের পর প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেপলার।

এ অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে।

নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ৩০ দিনের শিথিলতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, এই সাময়িক অনুমোদন কেবল সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় ছিল—নতুন কোনো অর্ডারের ক্ষেত্রে নয়।

ট্রাম্পের নমনীয়তার সুর নিয়ে ইরানের স্পষ্ট বার্তা

চলমান সংঘাত নিরসনে যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ইরান। তবে শান্তি প্রচেষ্টার পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী মনোভাবকে’ দায়ী করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি। শনিবার (২১ মার্চ) জাপানি গণমাধ্যম কিয়োদোকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তেহরানের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘছি বলেন, এই যুদ্ধ ইরানের কাম্য ছিল না বরং এটি তাদের ওপর ‘চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে’। আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে যদি যুদ্ধ বন্ধের কোনো কার্যকর প্রস্তাব আসে, তবে ইরান তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। আমরা যেকোনো উদ্যোগ শুনতে এবং তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

তিনি জানান, ইরান কয়েক দিনের জন্য ‘যুদ্ধবিরতি’ চায় না। আমাদের লক্ষ্য, যুদ্ধের একটি ‘সম্পূর্ণ, ব্যাপক এবং স্থায়ী সমাপ্তি’।  এমন এক সমাধান, যা ভবিষ্যতে এই সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন পক্ষ সমাধান খুঁজলেও এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ করতে এখনও মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।

এদিকে তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রে ভাসমান ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে এখনও হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে দামের অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, আলজাজিরা